কালীগঞ্জের মুমূর্ষ এক রোগীকে সেচ্ছায় রক্তদান, চিকিৎসার সাহায্য চাইলেন রোগীর বাবা

0
6
Blood Transfution Photo

মোঃ হাবিব ওসমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শাহজালাল প্রাইভেট হাসপাতালে রঘুনাথপুর গ্রামের গরীব অসহায় থেলাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত মুমূর্ষ রোগী মামুনকে সেচ্ছায় রক্তদান করে মহত্বরে পরিচয় দিলেন, যশোর সিটি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান শাখার অনার্স শেষ বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক শামীম রেজা।

রবিবার বেলা ১২ টার সময় প্রতিবারের ন্যায় থেলাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত মামুন অসুস্থ অবস্থায় রক্ত নেওয়ার জন্য শাহজালাল প্রাইভেট হাসপাতালে আসে। মামুনের এখন যশোর মডার্ণ ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ লেঃ কর্নেল সাব্বির রহমানের তত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। ডাঃ সাব্বির রহমান বলেছেন, দুই ব্যাগ রক্ত শরীরে দিয়ে আমাকে দেখাতে আসবে। শাহজালাল প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতি দুইমান পরপর মানুষের কাছ থেকে রক্ত নিয়ে মানুনের শরীরে দেয়।

মানুনের মুখের দিকে তাকালে তার চোখের চাহনি দেখলে যে কেউ রক্ত না দিয়ে পারবে না। মামুন দূঃখ করে জানায়, আমার জন্ম গরীব ঘরে তার উপর ব্যয় বহুল রোগ আমার শরীরে । আমার জন্মই হচ্ছে পরের রক্ত নিজের শরীরে নিয়ে বেচে থাকার জন্যে। আর কতকাল মানুষের শরীরের রক্ত নিয়ে বেচে থাকতে হবে ? জন্মের পর থেকে থেলাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত মামুনের এখন বয়স ১৮ বছর।

সে কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের দিন মুজুর আজগর আলী লষ্কারের ছেলে। মামুনের রক্তের গ্রুপ ” ও পজেটিভ। প্রতি ২ মাস পর সে শাহজালাল প্রাইভেট হাসপাতাল এসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপর জোর দাবী রেখে বলে কাকু আমার শরীরের অবস্থা ভালো না তাড়াতাড়ি ফোন দেন এবং আমার জন্য রক্ত জোগাড় করেন। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন লোকের কাছে মোবাইল করে মামুনের জন্য রক্তদান করার জন্য অনুরোধ করেন।

রবিবার শাহজালাল প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামুনের জন্য বিভিন্ন লোকের কাছে ফোন করতে শুরু করে এমন সময় হঠাৎ করে হাসপাতালের অফিস রুমে আসে যশোর সিটি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান শাখার অনার্স শেষ বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক শামীম রেজা মামুনের সমস্থ কথা শোনার পর বলে আমার রক্তের গ্রুপ ”ও” পজেটিভ আমি মামুনকে রক্ত দেবো। তখনই সে সেচ্ছায় মামুনকে রক্তদান করে।

শামীম রেজা বলেন, যখনই মামুনের রক্তের দরকার হবে আমকে জানাবেন আমি এসে মামুনকে রক্ত দিবো। আমি জানি প্রতি তিন মাস পরপর রক্ত দিলে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না। নতুন রক্ত তৈরী হয় এবং আরেকজন মানুষের উপকার হয়।

শামীম রেজা আরো জানান, যদি কোন মুর্মূষ রোগীকে আমার গ্রুপের রক্ত (ও পজেটিভ) লাগে তাহলে আমাকে জানাবেন আমি অবশ্যই এসে রক্তদান করে যাব। রক্ত দান করলে শরীররে কোন ক্ষতি হয় না। আমি এর আগেও রক্তদান করেছি। আমার রক্তদান করার সুযোগ হলে আমি রক্তদান করি। শামীম রেজার মতো সব যুবক যদি সেচ্ছায় রক্তদান করে তাহলে রক্ত নেয়া রোগীদের খুবই উপকার হবে।

শামীম রেজা কালীগঞ্জ উপজেলার বড় রায়গ্রামের উদ্দিনের ছেলে ও যশোর সিটি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান শাখার অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। মামুনের দিন মজুর পিতা রঘুনাথপুর গ্রামের আজগর আলী লষ্কার জানান, আমার পক্ষে মামুনরে চিকিৎসা করানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক টাকা পয়সা ধার দেনা করে ছেলেকে চিকিৎসা করাচ্ছি। আমি কামলা খেটে যা পায় তাতে আমার সংসার চালিয়ে ছেলেকে চিকিৎসার টাকা থাকে না।

সমাজের বিত্তবান, বিবেকবানরা যদি আমার ছেলের চিকিৎসার ব্যাপারে আমাকে যদি সাহায্য করে তাহলে আমার ছেলেটার চিকিৎসা হবে তাছাড়া সম্ভব না। এ জন্য আমি সমাজের বিত্তবান, বিবেকবান ও দানশীলদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here