তিন কারণে পাসের হার কমেছে: শিক্ষামন্ত্রী

0
2
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফলাফল
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফলাফল

bbc71news : এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফলাফল আগের বারের চেয়ে খারাপ হওয়ার তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন, প্রশ্নফাঁস রোধ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়াকড়ির কারণে গত বছরের চেয়ে এবার পাস করেছে কম। তবে ফলাফল বিপর্যয় মনে হলেও আসলে বিপর্যয় নয়, এবছর সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ছোটখাটো অনেক কারণ আছে পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের। তবে এর মূল কারণ নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন, প্রশ্নফাঁস রোধ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়াকড়ি। এসব কারণে আগের বছরের চেয়ে কম পাস করেছে।”

তিনি বলেন, “এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এ বছর ৯৩ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫৩। সেই হিসাবে এ বছর পাস না করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০টি বেড়েছে। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।”

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা পরীক্ষায় নিয়ম-নীতিতর ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের আগে এসএসসি ও এইচএসসিতে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। ফলাফল কবে হবে সেটারও কোনো সময়সীমা ছিল না।”

বিজ্ঞান শাখায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি উত্তীর্ণের সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন “ছাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এ তথ্যগুলো খুবই ইতিবাচক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা পদক্ষেপ, শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের চেষ্টায় ভালো ফলাফল হয়েছে।”

পরীক্ষা বিষয়ে বোর্ডগুলো বেশকিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এবার সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে। প্রধান পরীক্ষকদের উত্তরমালা প্রণয়ণের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সাধারণ পরীক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের গুণগতমান যাচাইয়ের জন্য একটি প্রশ্নমালা সব প্রধান পরীক্ষককে সরবরাহ করা হয়েছে।”

মন্ত্রী বলেন, “পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো পদ্ধতি ছিল না। শত শত বছর এভাবেই চলে আসছে। কিন্তু আমরা এখন একটা মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করেছি। এবার আমাদের ফলাফল দেখে মনে হবে অনেক বেশি ফেল করেছে। মনে হতে পারে, আমাদের ছেলেমেয়েরা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু এভাবে দেখলে হবে না। এমন ফলাফলের জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম। আমরা জানতাম এবার যেভাবে আমরা পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করেছি সেটার কারণে এমনটা হয়েছে।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এবার আমরা শিক্ষকদের খাতা দেখার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কীভাবে খাতা দেখবে। নম্বর দেয়ার ক্ষেত্রে একটি স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম ফলো করার বিষয়ে অনুসরণ করা হয়েছে।”

আগে আমাদের খাতা দেখার পদ্ধতি ক্রুটিপূর্ণ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, “কিন্তু আমরা চিন্তা করলাম এটাকে একটি পদ্ধতির মধ্যে আনা দরকার। শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও অনেক তারতম্য হচ্ছে। দেখা গেছে, একই খাতা একজন দেখে এক রকম নম্বর দিচ্ছেন। আবার আরেকজন শিক্ষক সেটা দেখে আরেক রকম নম্বর দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা গত তিনবছর এটা নিয়ে গবেষণা করেছি। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছি। এবার আমরা চালু করেছি, প্রধান পরীক্ষককে ১২ শতাংশ খাতা দেখতে হবে। আগে তারা খাতা না দেখেই মতামত দিতেন।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মানার চেষ্টা করেছি উল্লেখ করেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. অলিউর রহমান। তিনি বলেন, “উত্তরপত্র মূল্যায়ন যথাযথভাবে করেছি। গত বছর পাসের হার ছিল ৮৪ শতাংশ, কেন ৫৯ শতাংশ হলো তার একটি পর্যবেক্ষণ নিয়েছি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here