পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পে বরাদ্দ কমাচ্ছে চীন, বাড়ছে ব্যয়

পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পে বরাদ্দ কমাচ্ছে চীন, বাড়ছে ব্যয়
February 21 13:03 2018

ঢাকা : মূল সেতুর কাজ এগিয়ে চললেও পিছিয়ে বিলম্ব হচ্ছে পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পে। একই সঙ্গে এখন শুরু না হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, রেলের লাইনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে স্বাভাবিক দামের তুলনায় তিন গুণ বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা পেয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় বাড়াতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে ভাঙ্গা, নড়াইল হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেল সংযোগ প্রকল্পে অর্থায়নে ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় যে ২৭টি প্রকল্পে অর্থায়ন চুক্তি হয় এটি তার একটি। তখন প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল ৩১৩ কোটি ডলার বা ২৫ হাজার কোটি টাকা।

কিন্তু চীনের এক্সিম ব্যাংক জানিয়েছে এই প্রকল্পে পূর্বনির্ধারিত বরাদ্দের ১৫ শতাংশ কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

শুধু তাই নয়, বদলেছে ঋণের শর্তও। আগে এই প্রকল্পের পুরো ব্যয় সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে দিতে চেয়েছিল চীনের এক্সিম ব্যাংক। তবে কয়েকদিন আগের সেই কমিটমেন্টের বদলে এখন বলছে, তারা ঋণ দেবে ঠিকই তবে তা হবে প্রতিশ্রুত ঋণের ৮৫ শতাংশ। আর এই ঋণ পাওয়ার শর্ত হলো এই প্রকল্পের অনেক কাঁচামালই এখন চীন থেকে কিনতে হবে।

এই অবস্থায় আগে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও এখন তা বাড়াতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের এক কর্মকর্তা জানান, চীনের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাড়তি ব্যয়ের চাপটা সরকারের কাঁধে পড়বে।

তিনি জানান, আগে প্রকল্প ব্যয় ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হলেও তা এখন বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪০ হাজার ৮ কোটি টাকায়।

২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পটিতে অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে চূড়ান্ত ঋণ চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও চুক্তিটি এখনও হয়নি। এই লক্ষ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এক প্রতিনিধি দল চীন সফর যাচ্ছেন। থাকছেন ইআরডি সচিব কাজী সফিকুল আজম, অতিরিক্ত সচিব জাহিদুল হক এবং রেল সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেনসহ অন্যরা।

তবে কবে এই সফর হবে তা এখনও নিশ্চিত না।

এদিকে সড়ক সেতুর কাজ এগিয়ে পদ্মা সেতুতে স্প্যান বসলেও পিছিয়ে পড়েছে রেল প্রকল্পের কাজ সড়ক সেতুর কাজ এগিয়ে পদ্মা সেতুতে স্প্যান বসলেও পিছিয়ে পড়েছে রেল প্রকল্পের কাজ। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সড়ক সেতু চালুর দিন থেকেই রেল চলাচলও উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ওই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে রেল মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠায়। তাতে বলা হয়েছিল ২০১৯ সালে পদ্মায় রেল সেতু উদ্বোধন করতে হলে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করতে হবে।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, জানুয়ারি ২০১৭ হতে কাজ শুরু করে এ বছরের শুকনো মৌসুমের মধ্যে আড়িয়াল খাঁ সেতুসহ অন্যান্য রেলসেতুর ফাউন্ডেশন নির্মাণ করা সম্ভব না হলে পদ্মা সেতু চালুর দিন হতে সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এরই মধ্যে রেলের চুক্তি না হওয়ায় এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ২৭ ডিসেম্বর ইআরডির কাছে চিঠি পাঠিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.