মাছের কাঁটায় রপ্তানি আয় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা

মাছের কাঁটায় রপ্তানি আয় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা
October 02 17:12 2018

মাছের কাঁটা রপ্তানি করে বছরে আয় হচ্ছে সাড়ে তিন শ কোটি টাকা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মাছের বর্জ্য হতে পারে রপ্তানি আয়ের একটি বড় খাত— মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মত্স্য অধিদফতর জানিয়েছে, মাছের আঁশ, ফুলকা, পিত্ত ও চর্বি, চিংড়ি মাছের মাথা ও খোসা, কাঁকড়ার খোলস রপ্তানি হচ্ছে ইতালি, জাপান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, চীন, জার্মানি, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে। এসব বর্জ্য দিয়ে স্যুপ তৈরি হয়।

এই স্যুপের চাহিদা সবচেয়ে বেশি পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। প্রতি মাসে চীন ও ভিয়েতনামে প্রায় ১০০ টন চিংড়ির মাথা ও খোসা এবং প্রায় ৫০ টন কাঁকড়ার খোলস রপ্তানি করা হয়। ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে কোরাল, বোয়াল, রুই, কাতলা, লাক্কা, আইড়সহ বিভিন্ন মাছের বায়ু থলি, পিত্ত, চর্বি রপ্তানি করা হচ্ছে।

গড়ে প্রতি মাসে দেড় শ টন মাছের বর্জ্য রপ্তানি করা হয়; যা থেকে বছরে ২০ থেকে ২৫ লাখ ডলার আয় হয়। এ ছাড়া প্রায় ২০০ থেকে আড়াই শ টন মাছের আঁশ, ৮০ টন হাঙ্গরজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়। এতে আয় হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ ডলার। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুধু স্যুপই নয়, মাছের চামড়া থেকে বেল্ট, জুতা, ব্যাগ ও ক্যাপসুলের খোলস, লিভার থেকে ওমেগা-৩ ক্যাপসুল, রাসায়নিক সেল থেকে ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরি করা সম্ভব। তবে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতের জন্য বাংলাদেশে এখনো যথেষ্ট দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি নেই।

এ কারণে মাছের কাঁটা, ফুসফুস, আঁশ ও চিংড়ির খোলস রপ্তানি করা হলেও নাড়ি, ভুঁড়ি, পাখনা, ফুলকা, চামড়া ইত্যাদি ফেলে দেওয়া হয়। ফলে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ চিংড়ি ও মত্স্য ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন মাছের বর্জ্য উৎপাদন হলেও প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে মাত্র ২০ শতাংশ রপ্তানি করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশই ফেলা হয়।

মাছের আঁশ, চিংড়ির খোসা থেকে পাওয়া বর্জ্যের বাৎসরিক বাজারমূল্য প্রায় চার হাজার কোটি টাকা; যা দেশের পুরো মত্স্য খাত থেকে অর্জিত আয়ের সমান। এ ব্যাপারে মত্স্য অধিদপ্তরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস (মত্স্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বলেন, মত্স্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু মাছ রপ্তানি করছে।

নতুন উদ্যোক্তারা প্রক্রিয়াজাত করা মাছের বর্জ্য রপ্তানি করতে পারে। একটি মাছ প্রক্রিয়াজাত করার পর মূল ওজনের ৪০ শতাংশ মাছ আর ৬০ শতাংশ বর্জ্য থাকে। এই ৬০ শতাংশ বর্জ্যের মধ্যে ১০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বাকি ৫০ শতাংশ যদি প্রক্রিয়াজাত করা হয় তাহলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি মূল মাছের দামও হ্রাস পাবে।

মত্স্য অধিদফতরের উপপরিচালক (মত্স্যচাষ) ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে মত্স্য বর্জ্য প্রক্রিয়া এখনো তেমন বিকাশ লাভ করেনি। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার কারণে এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হওয়ায় মত্স্য বর্জ্যের রপ্তানির বাজার খুব সহজেই পাওয়া যাবে।

write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.