সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধনের আগে এমপিদের নিবন্ধন যোগ্যতা নয় কেন ?

0
14
thoto

ঢাকা: বন্ধু মাসুদ সিরাজগঞ্জে সাংবাদিকতা করেন একযুগের কাছাকাছি সময় ধরে। তার ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্ট আমাকে এই লেখাটির সুত্রপাত ঘটিয়ে দিল। সত্যিই তো সাংবাদিকতায় অর্ধশিক্ষিত মানুষ কেন সাংবাদিক হিসাবে কাজ করে খাবো? ভাববারই বিষয়, চিন্তা করার খোরাক যোগানোর মতই কথা।

সাম্প্রতিকালে পিআইবি কর্তৃপক্ষ দেশের সকল জেলা প্রশাসকদের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন সাংবাদিক হিসাবে নিবন্ধন করতে ১২ বছর কাজের অভিজ্ঞতা আর স্নাতক পাশ হতে হবে।খুবই ভাল এবং মহৎ উদ্যোগ সাধুবাদ জানাই। হাততালি পেতেই পারেন পিআইবি কর্তৃপক্ষ। এমনটি আজকের এই বিকশিত শিক্ষিত যুগে কেন অর্ধশিক্ষিত মানুষ এই মহৎ পেশায় আসবেন। কোন অধিকার নাই তাই স্নাতক না হলে তার নিবন্ধন বাতিল একমত হলাম মাননীয় সরকার।

কিন্তু আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা আছে আপনাদের কাছে, আমাদের সাংবাদিক হতে হলে যা লাগে তা এমন সংবাদদাতা বা সাংবাদিক বিভিন্ন স্থান, ক্ষেত্র, বিষয় ইত্যাদিকে ঘিরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংবাদ সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধরণের তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ কিংবা প্রতিবেদন তৈরি করে সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরণ করে থাকেন। পেশাজীবি হিসেবে একজন সাংবাদিকের কাজই হচ্ছে সাংবাদিকতায় সহায়তা করা। এছাড়া একজন সাংবাদিক শুধু সাংবাদিকই নয় একজন ভালো মানের লেখকও বটে। যার যোগ্যতা তাঁর লেখার মাধ্যমেই ফুটে ওটে। একজন সাংবাদিক যথাযথ গবেষণালব্ধ তথ্য, লেখনী এবং প্রতিবেদন রচনা করে তিনি গণমাধ্যমে উপস্থাপন করেন। মুদ্রিত মাধ্যমরূপে সংবাদপত্র, সাময়িকী, ইলেকট্রনিক মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন, রেডিও,  এবং ডিজিটাল মাধ্যমরূপে অনলাইন সাংবাদিকতায় নিজস্ব সংবাদ প্রচার কিংবা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গীতে নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে থাকেন। একজন প্রতিবেদক তৃণমূল পর্যায় থেকে তথ্যের উৎসমূল অনুসন্ধান করেন, প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার পর্ব গ্রহণ করেন, গবেষণায় সংশ্লিষ্ট থাকেন এবং অবশেষে প্রতিবেদন প্রণয়নে অগ্রসর হন।

পিআইবি’র মহাপরিচালক বলেছেন, নতুন সাংবাদিক হতে নুন্যতম স্নাতক পাশ এবং যারা সাংবাদিকতার সাথে ১২ বছর যুক্ত আছেন, তারাই সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় কয়টি করে প্রেসক্লাব বা সাংবাদিকদের সংগঠন আছে তার তালিকা চেয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। পরবর্তিতে হয়তো কর্মরত সাংবাদিকদের তালিকা চেয়েও চিঠি দিতে পারেন পিআইবি কর্তৃপক্ষ। অব্যশই জেলা প্রশাসনসহ পিআইবি’র কাছে জেলা সদর অথবা উপজেলায় কোন সাংবাদিক কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তার সঠিক তথ্য থাকা দরকার। এতে উভয়েরই সুবিধা।

দীর্ঘদিন হলো আমাদের দেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না এমন আইন বিদ্যমান, স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই দেশ পরিচালনার যোগ্যতা হিসেবে বিবেচ্য হবে।

আগে ছোটবেলায় জানতাম সংসদ সদস্যগন সব ধরনের আইন প্রণয়ন করেন। বড় হয়ে দেখছি তারা সব পারেন এবং করেন– আইন প্রণয়ন করতে আবার লেখাপড়া জানার দরকার কি, শিক্ষা দরকার কি? দল থেকে মার্কা পাবো তারপর মার্কা দিয়ে জিতেই ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৩০০ জন ভি.ভি.আইপি হয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি, বাড়ি, তারপর বড় বড় সুযোগ সুবিধা নামে-বেনামে পাহাড়তুল্য সম্পদের মালিক সাথে সাথে আরও কতো সুযোগ সুবিধা। শুধু আইন প্রণেতা হয়ে হাততালি আর হাত তুলুন, ‘হ্যাঁ’ বলুন আর ‘না’ বলুন এটার তাদের আসল যোগ্যতা। যদি তাই হয় তাহলে বলার কিছু নেই।

গণতন্ত্র মানেই কি মূর্খের রাজনীতি? তার জন্যই কি জাতীয় সংসদ সদস্য নামক মূর্খদের স্থান বেশি। আর সাংবাদিকদের শিক্ষার যোগ্যতা দেখার আগে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য পর্যন্ত গ্রাজুয়েশন নির্ধারণ করা দরকার। তা না হলে সঠিক গণতন্ত্র কখনো ফিরে আসবে না। তথ্য মন্ত্রনালয় শুধু সাংবাদিকদের শিক্ষাগতযোগ্যতা নির্ধারণ করে কি গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চান।

যুগের সাথে আমরা সাংবাদিকরাও আজ সবকিছুর পরিবর্তন চাই, শিক্ষিত সাংবাদিক চাই, তাহলে হলুদ সাংবাদিকতা কমে যাবে- সবার আগে চাই প্রতিটি রাজনৈতিকদলগুলোতে শিক্ষিত রাজনীতিবিদ। জাতীয় সংসদের আইন প্রণেতা হিসাবে আমরা আর দেখতে চাই না একাডেমিক সার্টিফিকেটবিহীন নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিতদের। সবার আগে নিবন্ধন দরকার জাতীয় সংসদের সদস্যদের। আমরা আরো দেখতে চাই এই সংসদের চলতি অধিবেশনে এখন যারা মাননীয় সাংসদ আছেন তাদের মধ্যে থেকেই এই প্রশ্ন উত্থাপিত হউক।

সূত্র অনলাইন-নিউজ জি/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here