সুন্দরবনে ঈদকে সামনে রেখে মুক্তিপনের দাবীতে ৩০ জেলে অপহরণ

0
9
sundarban

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সুন্দরবন থেকে ফিরে :

ঈদকে সামনে রেখে পূর্ব সুন্দরবনে সুমন বাহিনী নামের একটি নতুন দস্যু বাহিনী দস্যুতা শুরু করেছে। গত দু’দিনের ব্যবধানে দস্যু গ্রæপের সদস্যরা সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়ে উপজেলার ৪ মৎস্য ব্যবসায়ীর কমপক্ষে ৩০ জেলেকে মোটা অংকের চাঁদার দাবীতে অপহরণ করে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জেলেদের সূত্র জানায়, গত ২০ ২১ ও২২ জুন রাতে সুমন বাহিনী নামের ৬-৭ জনের একটি দস্যু দল চাঁদপাই রেঞ্জের তাম্বলবুনিয়া ও কলামুলা এলাকায় অবস্থানরত জেলেদের বহরে হামলা চালায়।

এ সময় দস্যুরা ৮-১০ টি নৌকায় হানা দিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন উপজেলার রতিয়া রাজাপুর ও উত্তর রাজাপুর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী সগির আকন, ছরোয়ার গাজী, জাকির হোসেন ও চাঁনমিয়া আকনের নৌকার জেলে উত্তর রাজাপুর ও ধানসাগর এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ হাওলাদার (৪৫), রাজ্জাক হাওলাদার (৫০), ফরহাদ ফকির (২৭), সোহেলা মৃধা (২৪) ও আজিজ মৃধা (৩৫) সহ ১০ জেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের প্রায় অর্ধশত নৌকার প্রত্যেকটির অনুকূলে ২০-২৫ হাজার টাকা করে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে ০১৭৮১৯২৯৭০০ নং একটি মুঠোফোন নাম্বার দিয়ে নৌকার মালিকদের (মহাজনদের) যোগাযোগের নির্দেশ দেন।

দাবীকৃত চাঁদার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আটক জেলেদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় দস্যুরা। বাহিনী প্রধান সুমন ও তাঁর সহযোগি তরিকুল ইসলামের বাড়ি মংলা উপজেলার ঢাইনমারি ও বৈদ্যমারী এলাকায়। এছাড়া তার সেকেন্ড-ইন- কমান্ড আব্বাস ওরফে জিল্লুর মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। গত এক সপ্তাহ পূর্বে ওই দস্যু বাহিনী সুন্দরবনে আত্মপ্রকাশ করে। এ বিষয়ে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

তবে খোঁজ খবর নিয়ে দেখবেন। এছাড়া ধানসাগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.আই তৌহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

# সুন্দরবনের আত্মসমর্পনকারী বনদস্যুদের সদস্যদের ঈদ উপহার দিয়েছে র‌্যাব এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট অফিস : সুন্দরবনের আতœসর্ম্পনকারী ৭টি বনদস্যু বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যদের মাঝে বৃহস্পতিবার বিকালে মংলার ইঞ্জিনিয়ারিং ঘাটে ঈদ উপহার সামগ্রি বিতরন করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং ঘাটে র‌্যাব মহারিচালকের পক্ষ হতে র‌্যাবের উপসহকারী পরিচালক মো. জামান উদ্দিন বনদস্যুদের হাতে লুঙ্গি, শাড়ি এবং সেমাই ও চিনি তুলে দেন।

বনদস্যুরা পরিবার পরিজন নিয়ে যাতে ভাল ভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে সেজন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানায় র‌্যাব। সুন্দরবনের আতœসর্ম্পনকারী বনদস্যু মাষ্টার, জাহাঙ্গীর, শান্ত, সাগর, কবিরাজ, খোকা বাবু ও নোয়া বহিনীর ৮৪ জন সদস্যদের মাঝে এ উপহার সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। ২

০১৬ সালের ২৯ জুন মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং ঘাটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে ৫২টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমান গোলাবারুদ জমা দিয়ে প্রথম আতœসর্ম্পন করে বনদস্যু মাষ্টার বাহিনী। এর পর তাদের পথ ধরে এপর্যন্ত সুন্দরবনের ১২টি দস্যুবাহিনীর ১৩২জন বনদস্যু আতœসর্ম্পন করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here