স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে খুলনার আ’লীগ নেতাদের বৈঠক দলীয় নেতাদের অহেতুক হয়রানি না করার নির্দেশ

0
28

নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাইকগাছায় উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রশীদুজ্জামানসহ দলীয় নেতাদের অহেতুক হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। একইসঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত যে বা যারাই হোক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ প্রশাসনকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব আলী সানার নেতৃত্বে খুলনার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। গত রবিবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাসভবনে এই বৈঠকে খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে ছাত্র লীগ ও যুব লীগের দুই নেতার মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ এবং হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। বিশেষ করে ওই ঘটনায় রাজনৈতিক ভাবে হয়রানি করার জন্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রশীদুজ্জামানসহ নির্দোষ নেতাদের মামলার আসামী করার বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। মন্ত্রী বিষয়টি ধৈর্য্য সহকারে শোনেন। তাৎক্ষণিক ভাবে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। গতকাল এবিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ওই বৈঠকে উপস্থিত অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব আলী সানা সাংবাদিকদের জানান, দলের দুই কর্মীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের নামে মামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এঘটনায় দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। বিষয়টি সহজভাবে নেননি মন্ত্রীও। তিনি প্রশাসনকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রশীদুজ্জামানসহ দলীয় নেতাদের অহেতুক হয়রানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্নের পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর এক লিখিত আবেদনে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে অব্যহতি চেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. রশীদুজ্জামান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজপথে লড়াই করার কারণে ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আমরা অসংখ্য হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দল ক্ষমতায় আসার পরও একের পর এক মিথ্যা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান উপজেলা কমিটির প্রথম বৈঠকে দলের ছত্র-ছায়ায় থাকা এক দল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। সংগঠন থেকে বহিস্কৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি দ্রæত মামলা থেকে তাকে অব্যহতি দিয়ে সাংগঠিক কাজ করার সুযোগ দেওয়া অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পূর্ব শত্রæতা ও রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে সম্প্রতি যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা আব্দুর রাজ্জাক রাজু ও ছাত্রলীগ নেতা মধুসুদন হালদারের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় পাল্টা-পাল্টি মামলা হয়েছে। তবে রাজুর স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রশীদুজ্জামান, ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম মোড়ল ও আসলাম মাহমুদসহ নির্দোষ নেতাদের আসামী করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলের জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপর কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী নেতারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here