বসন্তের আমেজ রাবিতেও

0
16

রাবি প্রতিনিধি
ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করতে মেতেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। বসন্তের প্রথম দিনে বাসন্তী রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে তরুণীরা মাথায় পরেছে ফুলের মুকুট। আর সেই সঙ্গে গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়াসহ বাহারি নামের বর্ণালী ফুলে ক্যাম্পাসের গাছেও যেন বসন্ত জানান দিচ্ছে খুব ভালোভাবেই। শীতের রিক্ততা মুছে প্রাণের স্পন্দনে একটু একটু করে জেগে উঠেছে প্রকৃতি, ঠিক তেমনি করে বসন্তের ফুলে সেজে উঠেছে মতিহারের সবুজ চত্বর।

বসন্ত যেন ধূলি ধুসরিত ক্যাম্পাসের বুকে এক টুকরো রঙের ছোঁয়া নিয়ে হাজির হয়েছে। ৬ রঙের চন্দ্রমল্লিকা, ৩ রঙের সেলভিয়া, ১৫ রঙের ডালিয়া, ৪ রঙের সাপারি গাঁদা, ইনকা গাঁদা, চয়না গাঁদা, দেশি গাঁদা, ৬ রঙের ক্যারেনডেলা, ৪ রঙের স্টার, শ্যালোশিয়া (মোরগ ফুল), ৭ রঙের ¯েœা বল ও ৩ রঙের প্রিটনি, প্রিটনি হাইব্রিড, জিনিয়া, কসমস, হাইবিট, কামিনিসহ প্রায় ৪০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল স্থান পেয়েছে এ ক্যাম্পাসে।

এদিকে বসন্তকে বরণ করে নিতে ফাগুনের প্রথম প্রহরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের। চারুকলার মুক্তমঞ্চে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। একপাশে পিঠার স্টলগুলো থরে থরে সাজানো। সেগুলোতে সাজানো রয়েছে ভিন্ন রঙ ও স্বাদের পিঠা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দলবেঁধে তরুণ-তরুণীরা ভিড় করে সেখানে। অনেকে এসেছের প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে। শুধুমাত্র ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরাই নয়। বাইরের তরুণ-তরুণীরাও ক্যাম্পাসের নানা অনুষ্ঠানে এসে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বসন্ত বরণ করে নিতে ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা বের করে শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট আয়োজন করে শোভাযাত্রা, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক আড্ডার। নানা আয়োজনে বসন্তকে বরণ করে নিয়েছে সংগীত বিভাগ, ফোকলোর বিভাগ ও বাংলা বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে রাবি কোয়ান্টাম ম্যাথড দিনব্যাপী চিত্রকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রথম বসন্তবরণে তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে আলাদা প্রাণচাঞ্চল্য। পাঞ্জাবি-শাড়ি পরে বন্ধুরা মিলে পুরো ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হই-হুল্লোর করে। প্রথম বর্ষের শিমুল সোয়েব তাদেরই একজন। তিনি বলেন, গ্রামে কখনো বসন্ত বরণের এতো আয়োজন প্রত্যক্ষ করিনি। ক্যাম্পাসের নানা উৎসবে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি। প্রাণভরে উপলব্ধি করছি আজকে ক্যাম্পাসের আনন্দ।

আবার বসন্ত আসলেও অনেকের মনেই বাজছে বিদায়ের সুর। কারণ পড়াশোনা শেষ করছেন তারা। ক্যাম্পাস জীবনে এটাই তাদের শেষ বসন্ত। তাই বন্ধুরা মিলে যতটুকু পারা যায় প্রাণ ভরে নিচ্ছেন বসন্তের আস্বাদ। কথা হয় এমনই একজন শিক্ষার্থী মারজানার সঙ্গে। তিনি বলেন, মতিহারের সবুজ চত্বর এমনিতেই আমাদের কাছে উপভোগ্য। আর সেই সঙ্গে বসন্ত বরণের প্রাণচাঞ্চল্য মুগ্ধ করছে। ক্যাম্পাসের শেষ বসন্তকে স্বরণীয় করে রাখতে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে রাখছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here