কারাগারে মুসা রাজাকার

0
10
musa karagare
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কুখ্যাত রাজাকার আবদুস সামাদ ওরফে ফিরোজ খাঁ ওরফে মুসাকে (৬৫) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ ২৩ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে তাকে রাজশাহীর আমলি আদালত-২ এ হাজির করে পুঠিয়া থানা পুলিশ।
পরে আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার মুসাকে কারাগারে পাঠনোর নির্দেশ দেন। এ সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাকে আদালত থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠনো হয়।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মুসা রাজাকার মানবতাবিরোধী অপরাধেরর দায়ে অভিযুক্ত। তবে তার নথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রয়েছে। তাই ২০১৬ সালের (জিআর-২৭৭/১৬) বিস্ফোরক মামলায় মুসাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে মূল নথি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে গতকাল ২২ জানুয়ারি রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মুসাকে আটক করে পুলিশ।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া সাংবাদিকদের জানান, আব্দুস সামাদ ওরফে ফিরোজ খাঁ ওরফে মুসা মানবতা বিরোধী অপরাধেরর দায়ে অভিযুক্ত। তাকে রাজশাহীর পুঠিয়া থেকে আটক করা হয়েছে। এর আগে মুসার হাতে নিহত উপজেলার পশ্চিমভাগ গ্রামের শহিদ আবদুস সামাদের স্ত্রী রাফিয়া বেগম অভিযোগ দাখিল করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
চলতি মাসের শুরুতে সরেজমিন পুঠিয়ার বাঁশবাড়িয়া,পশ্চিমভাগ এবং গোটিয়া গ্রামে আদিবাসী ও বাঙালিদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানোর ঘটনার তদন্ত করা হয়। এ সময় মুসার হাতে নিহত বাঙালি ও আদিবাসীদের স্বজনরা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আদিবাসীদের সঙ্গে জমি বিনিময় করে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘী থানার ইসলামপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে মুসা নিকট আত্মীয়দের নিয়ে পুঠিয়ায় এসে বসবাস শুরু করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুসার বয়স ছিল ২০ থেকে ২২ বছর। ওই বয়সেই মুসা পাকিস্তানের পক্ষে এলাকার যুবকদের নিয়ে একটি দল গঠন করেছিলেন। তার নেতৃত্বে এ দল এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। একাত্তরের ১২ এপ্রিল পাকহানাদার বাহিনী পুঠিয়া আক্রমণ করে মানুষ হত্যা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করলে মুসা হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়।
সে ১৯ এপ্রিল ৩০-৪০ জন হানাদার বাহিনী নিয়ে বাঁশবাড়িয়া গ্রামে যায়। সেখান থেকে তারা ২১ জনকে আটক করে। তাদের নিয়ে রাখা হয় গোটিয়া গ্রামের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বাড়িতে। সেখানে দিনভর নির্যাতন করে ১৭ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর চারজনকে হত্যা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here