ডুমুরিয়ায় প্রেমিকা ও তার পরিবার কর্তৃক কলেজ ছাত্র খুন

0
20

ডুমুরিয়া(খুলনা) সংবাদদাতা:
প্রেমঘটিত কারণে প্রেমিকা ও তার পরিবারের লোকজন মিলে প্রেমিক সুদর্শন রায়কে (২৩) শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দোষ এড়াতে প্রায় পৌনে ১ কিলোমিটার দূরে খালের বাঁধের ওপর ফেলে রাখে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দিবাগত রাতে মির্জাপুর গ্রামে। এব্যাপারে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ প্রেমিকা লাভলী বিশ্বাস(১৭),ভাই কঙ্কন বিশ্বাস(২২), মা দ্রৌপদী বিশ্বাস কে (৪৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

পুলিশ জানায়, নিহত সুদর্শন রায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানার বুনারাবাদ গ্রামের সুকুমার রায়ের ছেলে। ছোট বেলা থেকে সে ডুমুরিয়া থানার বড়ডাঙ্গা গ্রামে নানা নির্মল কান্তি মন্ডলের বাড়ী থেকে লেখা পড়া করে আসছিল। সম্প্রতি সে খুলনার সরকারী সুন্দরবন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের পরীক্ষা শেষ করেছে। পড়ার অবসরে সে ডুমুরিয়া বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টিউশনী (কোচিং) ছাত্র-ছাত্রী পড়াতো। এ সুযোগে মির্জাপুর গ্রামে বিপুল বিশ্বাসের মেয়ে ডুমুরিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী লাভলী বিশ্বাসের সাথে পরিচয় ঘটে।

দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিন পরিচয় থেকে প্রেমে পরিণত হয়। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে প্রেমিকা লাভলী মোবাইল ফোনে সুদর্শনকে তার বাড়ীতে ডেকে পাঠায়। প্রেমিকার ফোন পেয়ে বড়ডাঙ্গা থেকে ওই রাতেই মির্জাপুর গ্রামে প্রেমিকা লাভলীর সাথে দেখা করতে আসে। প্রেমিকা, ভাই কঙ্কন, মা দ্রৌপদী বিশ্বাস কৌশলে সুদর্শনকে মির্জাপুর গ্রামের খালের পাশে একটি বাগানের মধ্যে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে কৌশলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন।

দোষ এড়াতে ১টি নৌকায় করে ওই রাতেই প্রায় পৌনে ১ কিলোমিটার দূরে একই গ্রামের প্রকৌশলী অরুণ মহালদারের বাড়ীর পেছনে মির্জাপুর খালের বাঁধের ওপর ফেলে রেখে যায়।

সূত্র জানান, সুরতহালে নিহতের ডান কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল, দুই পা দড়ি দিয়ে বাঁধার চিহ্ন সহ পিঠে জমাট রক্তবাঁধা আঘাত ও গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছিল। মৃত্যুর সঠিক তথ্য উদঘাটনের জন্য নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে সূত্র জানান।

এলাকাবাসী জানান, লাভলী বিশ্বাস ইতোপূর্বে আরও ২/৩ জন যুবককেও প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিল। কৌশলে তারা চলে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে নিহত সুদর্শন লাভলীর প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করায় তার পরিবারের লোকজন মিলে তাকে হত্যা করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here