রামপালে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের কারনে খাদ্য ঘাটতি চরম আকার ধারন করতে পারে

0
29
কৃষি উৎপাদন
কৃষি উৎপাদন

জিৎ ঢালী, নিজস্ব প্রতিবেদক: রামপাল (বাগেরহাট) থেকে ॥ রামপালে জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, ফসলী জমিতে যত্র তত্র বসত বাড়ি ও স্থাপনা নির্মান, লবনাক্ততার বিস্তার, নদী খাল খনন জনিত অপরিকল্পিত বালু ডাম্পিং,কৃষি জমির উপর শিল্পায়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা,সিডর আইলার মত পূনঃ পূণঃ দূর্যোগের হানা ইত্যাদি কারনে বিগত তিন দশকে কৃষি উৎপাদন আশংকাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে।

এতে প্রতি বছর খাদ্য ঘাটতির পরিমান বাড়ছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে বেকারত্ব, পেশার পরিবর্তন ও জীবিকার সন্ধানে মাইগ্রেশন। ক্রমবর্ধমান আর্থিক মন্দার কারনে এলাকার ব্যবসা বানিজ্যও পড়ছে হুমকির মুখে।
বিগত ২০০০ সাল থেকে ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ উপজেলায় খাদ্য ঘাটতির পরিমান দাড়িয়েছে ২ হাজার ৩ শত ৫১ মেঃ টন। রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শংকর কুমার মজুমদার জানান, ৯০ এর দশকে যেখানে আবাদযোগ্য জমির পরিমান ছিল ২০ হাজার ৫ শত হেক্টর।

২০০০ সালে তা কমে ১৯ হাজার ৫ শত হেক্টরে দাড়ায় এবং ২০১৬ সালে তা কমে ১০ হাজার ৪ শত হেক্টরে পৌছেছে। নতুন করে সরকারী ভাবে ফসলী জমিতে সরকারী ও  বেসরকারীভাবে শিল্পায়ন ও উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরীর ব্যাপক উদ্যোগ গৃহীত হওয়ায় আবাদযোগ্য জমির পরিমান কমে গেছে। এছাড়া মংলা-ঘোসিয়াখালী চ্যানেলসহ নদী খাল খননে অপরিকল্পিত বালু ডাম্পিং এর কারনে প্রায় ১২ শত হেক্টর আবাদী জমির পরিমান কমেছে বলে জানা গেছে।

২০০০ সালে এ উপজেলায় চালের উৎপাদন ছিল ২৫ হাজার ১৪২ মেঃ টন। ২০১৬ সালে তা এসে দাড়িয়েছে ২৮ হাজার ৪৭৫ মেঃ টন। উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষের কারনে এ আবাদ কিছুটা বাড়লেও ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় তা নিতান্তই অপ্রতুল বলে কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে উন্নত চাষাবাদের মাধ্যমেও খাদ্য চাহিদা পূরন করা সম্ভব।

তবে সে জন্য আরো উচ্চ ফলনশীল জাতের প্রয়োজন বলে কৃষি দপ্তর সূত্রে প্রকাশ। ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে বাইনতলা, উজলকুড় ও মল্লিকেরবেড় ছাড়া অন্য সাতটি ইউনিয়নে তীব্র লবনাক্ততার কারনে আমন ও বোরো চাষ ব্যাপক হারে  হ্রাস পেয়েছে।  ্ওই তিনটি ইউনিয়নে লাল মোটা ও সাদা মোটা ধান চাষ করে চাষীরা হেক্টরে আড়াই মেঃ টন চাল উৎপাদন করছে। কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, লাল মোটা ও সাদা মোটার পরিবর্তে ব্রি ধান ৭৬ ও ৭৭ জাতের উচ্চ ফলনশীৃল আবাদ করলে হেক্টরে ৫ মেঃ টন পর্যন্ত চাল উৎপাদন সম্ভব।

যদিও ওই জাতের ধান বীজ নিতান্তই অপ্রতুল। এর পরেও  মাত্র ১০০ কেজি ধান বীজের চাহিদা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খাদ্য চাহিদা পূরনে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চ্যানেলের বালু ভরাটকৃত ১২০০ হেঃ জমিতে বিকল্প চাষ হিসেবে চিনা বাদাম, আলু,মিষ্টি কুমড়া,আখ বাঙ্গি,তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে চলমান খাদ্য সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব বলে সচেতন মহল মনে করেন। অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ ও লবনাক্ততার বিস্তার কৃষি উৎপাদনের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যলেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই ব্যবস্থা গ্রহন প্রয়োজন।

কৃষি জমির উপর অবকাঠামো নির্মান চলমান হারে অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতি চরম আকার ধারন করতে পারে বলে আশংকা করছেন অভিজ্ঞ মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here