কেশবপুরে গেজেট থেকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ দেয়ার দাবি

0
57
মুক্তিযোদ্ধাদের নাম
মুক্তিযোদ্ধাদের নাম

কেশবপুর (যশোর): চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে গেজেটভূক্ত ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন যশোরের কেশবপুরের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা। এ ব্যাপারে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম উল্লেখ করে তালিকা থেকে নাম বাতিলের দাবিতে একটি অভিযোগপত্র উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এ দাবিতে ইতোমধ্যে কেশবপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে এ দেশের সর্বস্তরের জনতা জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। কিন্তু দেশ বিরোধী রাজাকাররা পাকসেনাদের সাথে আতাত করার কারণে দেশ স্বাধীন হতে বাঙালীকে দীর্ঘ ৯ মাস অপেক্ষা করতে হয়। দেশ স্বাধীনের পর লাল মুক্তি বার্তায় কেশবপুরে ৬৫ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এরপর চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে কেশবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তৎকালিন কমান্ডার প্রয়াত কামালউদ্দীন আহম্মেদ তৎকালীন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিতর্কিত ও স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম তালিকাভূক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে সুপারিশ করেন। এ সময় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও অনেকে উৎকোচ দিতে ব্যর্থ হয়ে এ তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান।

কেশবপুর শহরের শরীতুল্লাহ দফাদারের ছেলে আফাজ আলী অভিযোগ করে বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। অথছ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম নেই। তার কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সনদপত্র, তাঁর যুদ্ধকালীন কমান্ডার রবিউল আলম স্বাক্ষরিত গেরিলা এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি আতাউর গনি ওসমানী স্বাক্ষরিত স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র রয়েছে। এরপরও তার মত অনেকেই তালিকাভূক্ত হতে পারেনি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ২০০৫ সালের ২৪ নভেম্বর প্রকাশিত গেজেটে বিতর্কিত ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়। যার কারণে কেশবপুরের মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬৫ ছাড়িয়ে দাঁড়ায় ১০৯ জনে। দ্বিতীয় বারের এ তালিকার কেউ কেউ রাজাকার, কেউ পাকিস্থান সেনাদের চর, কারও বয়স কম এমনকি মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও তালিকাভূক্ত হয়। এ নিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

বর্তমান সরকার ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করলে এরই অংশ হিসেবে কেশবপুরে ৭৯ জন আবেদন করেন। এ সময় যারা ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের ভাতা উত্তোলন করছেন তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতির কাছে একাধিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরমধ্যে পৌর এলাকায় রয়েছেন ১০ জন।

অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, মধ্যকুল গ্রামের ফজর আলী, সাবদিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান মন্টু, আলতাপোল গ্রামের আক্তার আলী মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার বিপক্ষে কাজ করত। বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান রাজাকারদের চর ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা রহমান আলী ঢালীসহ ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা পৌর এলাকার এসব ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তার ইউনিয়নের সারুটিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক একজন চি‎িহ্নত রাজাকার, বিদ্যানন্দকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের অভিযোগ, বাউশলা গ্রামের লুৎফর রহমান রাজাকারদের সহযোগি হিসেবে কাজ করতেন। এছাড়া পাঁজিয়া ইউনিয়নের অর্ধশত লোকের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্রে পাঁচবাকাবর্শী গ্রামের রাজাকার আব্দুল করিম, কওছার আলী, পাঁজিয়া গ্রামের অশোক ঘোষ, বাবর আলী গাজী, আবুল গাজী, অলোক দে ও আবুল হোসেন স্বাধীনতা বিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন।

এদিকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অর্ন্তভূক্তি ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবীতে ১৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগারের আয়োজনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহরের শহীদ দৌলত বিশ্বাস চত্ত্বরে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক এমএলএ সুবোধ মিত্রের পুত্র এ্যাড. মিলন মিত্রের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী,যশোর জেলা প্রজন্মলীগ নেতা ও কেশবপুর নিউজক্লাবের সভাপতি আশরাফুজ্জামান,মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, মনিমোহন ধর সাগরদাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত, অধ্যাপক মশিয়ার রহমান, এ্যাড. কেসমত আলী, উপজেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান নান্নু, যুবলীগের আহ্বায়ক কাজী মোজাহিদুল ইসলাম পান্না প্রমুখ, এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব শরীফ রায়হান কবির জানান, ৭৯ জন আবেদনকারির মধ্যে গত ৪ ও ১১ ফেব্রুয়ারী ২১ জন শুনানীতে অংশ নেয় এবং ৫৮ জন অনুপস্থিত থাকেন। এর মধ্যে ৫জন ‘ক’ তালিকায় এবং ১৬ জন ‘গ’ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহতি করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here