সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত এখন পোল্ট্রি শিল্প

0
41
পোল্ট্রি শিল্প
পোল্ট্রি শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক :রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে অনুষ্ঠিত দশম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি প্রদর্শনীতে নীলসাগর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের স্টলে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নেয় দেশসেরা এ অ্যাগ্রো কোম্পানির স্টল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলসাগর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবারের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে হাজির হয়েছে পোল্ট্রি, ফিশারিজ ও ডেইরির জন্য প্রয়োজনীয় নানা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে। গুণগতমান সম্পন্ন এসব খাদ্য তৈরি থেকে শুরু করে বিপণন ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে স্টলে ভিড় করছেন দেশি-বিদেশি খামারিরা।

প্রাণীজ আমিষ পূরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে মুরগি। মেলার নীলসাগর অ্যাগ্রোর স্টলে ছয় ধরনের পোল্ট্রি ফিড রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লেয়ার লেয়ার ফিড (ম্যাশ ফিড, সোনালী গ্রোয়ার (পিলেট ফিড), সোনালী স্টার্টার (পিলেট ফিড), লেয়ার গ্রোয়ার ফিড, ব্রয়লার স্টার্টার ফিড, ব্রয়লার গ্রোয়ার ফিড।

মেলায় মাছের প্রজাতি ও বয়স ভেদে সুষম মিশ্রণের মাধ্যমে তৈরিকৃত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাদ্য বাজারজাত করছে নীলসাগর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। মাছের প্রজাতি, বয়স, পানির প্রকৃতি, চাষ পদ্ধতি, তাপমাত্রা প্রভৃতির ওপর নির্ভর করে মাছের খাদ্যের প্রকৃতি ও প্রয়োগের মাত্রা নির্ধারণ করতে হয়। ছোট মাছকে দৈনিক তিন থেকে চার বার ও বড় মাছেকে দুই থেকে তিনবার খাদ্য দিতে হয়।

স্টলে পাউডার, ক্রাম্বল, পিলেট জাতীয় বিভিন্ন ধরনের ফিস ফিডও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-তেলাপিয়া গ্রোয়ার ফিড, পাঙ্গাস গ্রোয়ার ফিড, কার্প গ্রোয়ার ফিড।

এছাড়াও উন্নতমানের কাঁচামাল ও অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে খাঁটি দুধ ও তাজা মাংসের সংস্থানের জন্য দুই ধরনের গবাধি পশুর খাবার তৈরি করে নীলসাগর অ্যাগ্রো। মেলায় নীলসাগর ডেইরি ক্যাটল ফিড ও নীল সাগর ফ্যাটিনিং ক্যাটল ফিড প্রদর্শন করা হয়।

নীলসাগর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক (বিপণন) মো. মোস্তফা বলেন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রবৃদ্ধি যেকোনো সূচকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত এখন পোল্ট্রি শিল্প। শুধু তাই নয়, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের মানুষের পুষ্টির হার বিবেচনায় নিলে শিল্পটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আরো ব্যাপক।

তিনি বলেন, এ খাতে ব্যাপক সম্ভাবনার মধ্যেও অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগকারীরা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় নিম্নমানের খাবার ও পরিমিত খাবার বণ্টন না করায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত মুরগি, মাছ ও ডেইরি ফার্ম থেকে পর্যাপ্ত মুনাফা করা সম্ভব হয় না।

মোস্তফা আরো বলেন, নীলসাগর অ্যাগ্রোর খামারিদের উন্নতমানের মুরগির বাচ্চা সরবরাহে প্রতিমাসে ৩৫ লাখ বাচ্চা উৎপাদন ও বিপণন করে। এছাড়াও পোল্ট্রি, ফিশারিজ ও ডেইরি খাতের জন্য ১৮ জাতের খাবার উৎপাদন করি।

মেলায় আসা দর্শনার্থী আতিকুজ্জামান বলেন, বেশ কিছুদিন হয়েছে পড়ালেখা শেষ করেছি। চাকরিও করেছি। কিন্তু নিজেই কোনো ব্যবসা করা যায় কিনা চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, পোল্ট্রি প্রদর্শনীতে এসেছি এ খাতের সুযোগ, সুবিধা ও প্রতিবন্ধকতাগুলো জানার জন্য। পাশাপাশি কোনো কোম্পানির প্রোডাক্ট কেমন হয় তা নিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

এবারের পোল্ট্রি প্রদর্শনীতে নীলসাগর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজসহ দেশি-বিদেশি ১৯৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে মোট স্টল রয়েছে ৪৯০টি। বিশ্বের ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা তিনদিনব্যাপী এ শো’তে অংশ নিয়েছেন। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পোল্ট্রি প্রদর্শনী চলবে ৪ মার্চ পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here