সাভারে অস্ত্র ঠেকিয়ে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ

0
15
স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ
স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ

সাভার প্রতিনিধি: ঢাকার অদূরে সাভারে বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে অস্ত্র ঠেকিয়ে এক স্কুল ছাত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে চার বখাটে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাভার সদর ইউনিয়নের মিটন গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও জানাজানির পর রবিবার দুপুরে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।এদিকে গণধর্ষণের পর পরই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্য ধর্ষণের বিচারের আশ্বাস এবং ধর্ষকরা গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেওয়ায় নির্যাতিতার পরিবার এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।

নির্যাতিতার বাবা বলেন, তার মেয়ে মিটন গ্রামের স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বাড়ির পার্শ্ববর্তী সুলতানের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যায় স্কুল ছাত্রী। অনুষ্ঠান শেষে রাত ১২টার দিকে ওই স্কুল ছাত্রী বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাড়ির সামনে এসে পৌছালে সেখানে আগে থেকেই ওঁৎপেতে থাকা একই গ্রামের চার বখাটে সিরাজের ছেলে আনোয়ার, সুমনের ছেলে সুজন, আয়নালের ছেলে রনি ও দুখা মিয়ার ছেলে সাইদুল অস্ত্র ঠেকিয়ে স্কুল ছাত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে তার ওপর শুরু করে পাশবিক নির্যাতন।

রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্যাতন করার পর বখাটেরা তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে চলে যায়। পরে ভোর রাতে নির্যাতিতার পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজির পর গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। এদিকে ধর্ষণকারীরা ওই এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় ইউপি ওয়ার্ড সদস্য শুক্কর আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা এ ঘটনায় বিচার করে সামাধানের আশ্বাস দেয়। এছাড়াও এ বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করলে ওই পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করে দেওয়ারও হুমকি দেয় ধর্ষণকারীরা।

অন্যদিকে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, চার বখাটে তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তুলে নেওয়ার পর পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। তিনি এ ঘটনায় ওই বখাটেদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিজানিয়ে বলেন, তার মতো আর কোন মেয়ে ধর্ষণের শিকার যেন না হয়।

স্কুল ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষণকারীরা স্থানীয় প্রভাশালী। এ বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করলে তারা তাদের ওই গ্রামে থাকতে দিবে না।এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য শুক্কু আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।তবে সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে মিটন গ্রামে একটি সালিশের আয়োজন করার কথা রয়েছে।

সাভার মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) মিজান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। এছাড়াও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পেলে নির্যাতিতার পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহায়তার করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here