শততম টেস্টে অবিস্মরণীয় জয় টাইগারদের

0
11
জয় টাইগারদের

স্পোর্টস ডেস্ক: দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই ২ উইকেট হারিয়ে বেকায়দায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই শঙ্কা কাটিয়ে দেশের ক্রিকেটের ঐতিহাসিক শততম টেস্টের মাইলফলকে দাঁড়িয়ে অবিস্মরণীয় জয় তুলে নিল টাইগাররা। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে স্বাগতিকদের ৪ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ এ ড্র করলো টাইগাররা।

রোববার পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক শততম টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২২ রানেই দুই উইকেট হারিয়েছে মুশফিক বাহিনী। লঙ্কান অধিনায় রঙ্গনা হেরাথের পরপর দুই বলে ফিরে গেছেন ওপেনার সৌম্য সরকার (১০) এবং ইমরুল কায়েস (০)। হেরাথের বলে তুলে মারতে গিয়ে উইকেট দিয়ে দিলেন সৌম্য। লং অফে ক্যাচ নিলেন উপুল থারাঙ্গা। হেরাথের পরের বলটি ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। ভেবেছিলেন টার্ন করবে। কিন্তু টার্ন করেনি। ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে গুণারত্নের তালুবন্দী হলেন তিনি। নির্ভযোগ্য এই দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর শঙ্কা জাগে বাংলাদেশ শিবিরে।

তবে দারুণ ব্যাটিং করে দলকে বিপদমুক্ত করেন তামিম ইকবাল এবং প্রথম টেস্টে বাদ পড়া সাব্বির রহমান। দুজনের জুটি ধীরে ধীরে ৫০ ছাড়িয়ে যায়। জন্মদিনের একদিন আগে ক্যারিয়ারের ৪৯তম টেস্টে ২২তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম ইকবাল। ৮৭ বলে ৩ বাউন্ডারিতে তিনি এই ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান।

তামিম আউট হলেও উইকেটে ছিলেন সাব্বির রহমান। নিজেকে অনেকটাই সেট করে নিয়েছিলেন তিনি। ৭৬ বলে ৪১ রান করার পর তিনিও যে সেই পেরেরার বলে এলবিডব্লিউর শিকার হলেন তিনি। যদিও আউটটা এলো ডিআরএসের মাধ্যমে। আম্পায়ার এস রবি আউট না দিলেও লঙ্কানরা ডিসিশন রিভিউ চায়। সেখানেই দেখা গেলো সাব্বির লেগ বিফোরের শিকার।

এই চার উইকেট চলে যাওয়ার পর উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহীম। যদিও দু’জন মাত্র ১৯ রানের জুটি গড়তে সক্ষম হন।

সেই দিলরুয়ান পেরেরা বলেই আচমকা উইকেট হারিয়ে বসেন সাকিব। পেরেরার বলটি কাট করতে চেয়েছিলেন সাকিব। বল ব্যাটের কানায় লেগে স্ট্যাম্প ছুঁয়ে যায়। কিন্তু আম্পায়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না, আসলেই বল স্ট্যাম্প ছুঁয়ে গিয়েছিল নাকি উইকেটরক্ষক ডিকভেলার প্যাডে লেগে এসে বল আঘাত হেনেছে স্ট্যাম্পে। পরে থার্ড আম্পায়ার কল করে সাকিবকে আউট ঘোষণা করা হয়। তখন বাংলাদেশের রান ১৬২। সাকিবের আউট হওয়ার সময়ও ২৯ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের। উইকেটে ছিলেন মুশফিক আর মোসাদ্দেক। দু’জনই প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান; কিন্তু সাকিবের আউটটা শঙ্কার কালো মেঘ তৈরি করেই দিয়ে গেলো।

তখন অধিনায়কের সঙ্গী হলেন অভিষিক্ত মোসাদ্দেক হোসেন। নাটকীয়তার আরও বাকী ছিল! স্ট্যাম্পের অনেক বাইরে দিয়ে যাওয়া বল মুশফিকের প্যডে লাগলে আউট দিয়ে বসেন ভারতীয় আম্পায়ার সুন্দরম রবি! কিন্ত রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান অধিনায়ক। এরপর তার একটি ক্যাচও ছাড়েন হেরাথ। সাবলীল ব্যাটিং করতে করতে জয় থেকে ২ রানের ব্যবধানে ফিরেন মোসাদ্দেক (১৩)। এরপর মেহেদী মিরাজকে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান অধিনায়ক মুশফিক।

শ্রীলঙ্কাকে তাদের মাটিতে ৩ উইকেটে হারিয়েই ইতিহাসটা গড়লেন মুশফিকুর রহীম অ্যান্ড কোং। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয়ে ফিনিশং টাচটা এঁকে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here