মংলায় গৃহকর্মীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

0
21
মংলা
মংলা

আবু সাঈদ (রিয়াজ), মংলা প্রতিনিধি:অভাবের তাড়নায় গৃহ পরিচারিকার কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্তাসহ পরিবারের অমানুষিক নির্যাতনে মংলার গ্রামের বাড়িতে লাশ হয়ে ফিরেছে স্বামী পরিত্যাক্তা এক তরুনী।

গৃহ কর্তা ও তার পরিবারের লোকজন এই গৃহকর্মীকে মারধর করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি গরম পানি ছুড়ে জ্বলসে দেয়া সহ কেরোসিন ঢেলে পুড়ে দেয় তার পুরো শরির। টানা ৪ দিন খুলনা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গো পাঞ্জা লড়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাতে মারা যায় সে। নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, মংলার সিগনাল টাওয়ার এলাকার বৃদ্ধ মোজাম সরদারের কন্যা ফাতেমা বেগম গত প্রায় ৯ মাস আগে রাজধানীর দক্ষিন কোরানীঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় জনৈক দোলেয়ারের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয়।

কোন বেতন ছাড়াই পেটে ভাতে কাজ করছিল ফাতেমা। গত বৃহস্পতিবার সকালে ফাতেমা বাড়ির লোকজনের কাপড় ওয়াস করতে গিয়ে দুটি কাপড়ে সাদা ও লাল রং লেগে যায়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে গৃহকর্তা দেলোয়ার ও তার পুত্র আশিক তাকে (ফাতেমা) মারধর করে ।পরে গৃহকর্ত্রী সালমা গৃহকর্মীর শরিরে ফুটন্ত গরম পানি ছুড়ে দেয়। এতে ফাতেমার শরিরে ফুসকা পড়ে জলশে যায় এবং অবস্থা বেগতি দেখে বাথরুমে আটকে রেখে পুরো শরিরে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে তার পরিবারকে মোবাইল ফোনে জানানো হয় ফাতেমার শরির অগ্নিদগ্ধ হয়েছে।

এ অবস্থায় ঢাকায় তার কোন চিকিৎসা না করেই এদিন সন্ধ্যায় প্রাইভেট কার যোগে ফাতেমাকে মমুর্ষ অবস্থায় খুলনা মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবারকে আসতে বলেই পালিয়ে যায় গৃহকর্তা দোলোয়ারের পরিবার। এর পর ফাতেমার স্বজনরা হাসপাতালে পৌছানোর পর মৃত্যুর কোলে ঢুলে পড়ে গৃহকর্মী ফাতেমা। সেখান থেকে গতকাল মঙ্গলবার নিহতের মরদেহ মংলায় আনার পর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গো প্রেরন করে পুলিশ। মৃত্যুর আগে হাসপাতালে স্বজনদের কাছে নির্যাতনের বনর্না দেয় ফাতেমা বেগম। আর তার এ বর্ননা মোবাইলে ধারন করা হয় ভিডিওসহ।

এ বর্ননা কান্না জড়িত ফাতেমা নিজেকে বাঁচানোর অকুতি জানায়। আর আগুন আগুন বলেই কাঁদতে দেখা যায় তাকে। সে জানায়, প্রথমে বাড়ির গৃহকর্তা দেলোয়ার ও তার ছেলে তাকে মারধর করে। পরে গৃহকর্ত্রী সালমা শরিরে ফুটন্ত গরম পানি ছুড়ে মারে। এ সময় ফাতমা তখন ক্ষত যন্ত্রনায় ছটফট করছিলো তখন তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিবর্তে উদ্ধুদ্ধ করা হয় নিজের শরিরে আগুন দেয়ার জন্য। নানাভাবে চাপও প্রয়োগ করা হয়। প্রতিবেশীরা যাতে না জানতে পারে সেই কারনে বাথরুমে আটকে রাখা হয় গরম পানিতে শরির জ্বলসানো ফাতেমাকে ।

পরে বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকান থেকে কেরোসিন কিনে এনে তারে পুরো শরিরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। মৃত্যুও আগে মোবইল ফোনে ধারনকৃত এমন বর্ননা দেখে কাদঁলেন তার বাড়িতে লাশ দেখতে আসা প্রতিবেশীরা। নিহত ফাতেমার বড় বোন অরুনা বেগম জানান, যে বাড়িতে কাজ করছিল ফাতেমা সেই বাড়ির গৃহকর্ত্রী তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় । ভাল কাজ ও বেতনের প্রলোভন দিয়ে তাকে কাজে নেন গ্রহকর্তা ও তার স্ত্রী। তিনি ছোট বোনের ওপর চালানো নির্মম এ নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন।

ফাতেমার ছোট ভাই ইনুছ সরদার জানান, তাকে গৃহকত্রী সালমা ফোন করে তাকে বলেন, তোমার বোনের গায়ে আগুন লেগেছে। তুমি তাকে নিতে আসো। পরের দিন জানায়, ফাতেমাকে খুলনা মেডিকেল কলেজে আনা হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে দগ্ধ বোনকে ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ লুৎফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে নিহত ফাতেমার বাড়িতে পুলিশ প্রাথমিক ঘটনা অনুসন্ধান করে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করার জন্য বাগেরহাট মর্গে প্রেরন করা হয়। তিনি আরও জানান, ফাতেমাকে নিমর্ম নির্যাতনসহ আগুনে পুড়িয়ে দগ্ধ করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমান মিলেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিকে অবহীত সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here