যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ইদ্রিস আলী ও শাজাহান হাওলাদার

0
18
২৯ মার্চ, ১৯৭১
২৯ মার্চ, ১৯৭১

এস.এম. শামীম দিঘলিয়া, খুলনা ঃ ২২মার্চ ২০১৭ ইং দুপুরে ৩টার দিকে বাড়ী ফেরার পথে দেখা হলে গেল ইদ্রিস আলী সাথে।

আমায় ডেকে বললেন সাংবাদিক তো স্বাধীনতা পেয়েছ, কারা এনে দিয়েছে ? আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কে আপনি ? তখন তিনি জানান তার পৈত্রিক বাড়ী পিরোজপুর জেলায়। উপজেলার আমবাড়িয়া ঝুড়ি গ্রামের মৃত হাসান উদ্দিনের ছেলে শাজাহান। ১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে হাতে গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে গুলিবিদ্ধ হাত  নিয়েই চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন নিরবে নিভৃতে থাকা এই মুক্তিযোদ্ধা।

এ বিষয়ে ইদ্রীস আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায়র সময় তার আত্মীয় আব্দুল জব্বার ও ব্যাংক কর্মকর্তা মনজু আমাদের কয়েকজনকে ডেকে সেচ্ছাসেবক  কমিটি তৈরি করেন। রেলওয়ে মাঠে প্রশিক্ষণ নেন তারা এবং জোড়া গেট থেকে কাষ্টম গেট পর্যন্ত পাহারা দেন টিক্কা খানের ক্ষমতা গ্রহনের দিন আনুমাকি রাত ৪টার দিকে তারা পাক বাহিনীর গাড়ী দৌলতপুরের কুলিবাগানস্থ ইস্ফাহানি কলোনিস্থ রোড়ে টহল দিতে থাকেন। অস্ত্র না থাকায় আত্মগোপন করেন তারা।

এর ১০থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে গোলাগুলি শব্দ শুনতে পান। খবর আসে বঙ্গবন্ধুর ভাই আবু নাসেরের নুর নগর বাড়ীতে পাক বাহিনীরা আক্রমন করে। জোড়া গেটের দোকান পাটে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে খুলনা পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রগন সায়েমের বন্দুকের দোকান থেকে কিছু অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে বৈকালী এলাকায় অবস্থান নেন। সেখান থেকে পাক বাহিনীর টহল গাড়ীতে হামলা চালালে তাদের পাল্টা আক্রমনে মুক্তিযোদ্ধারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় ইদ্রিস আলী ও শাজাহান বরিশাল গিয়ে কাউখালি থানার কমান্ডার পনা ও আবুল বাসারের সাথে দেখা করে।

ক্যাপ্টেন কাশেমের নেতৃত্বে কাউখালি থানা দখলে অংশনেন। কয়েকদিন পরে আবার একত্রিত হয়ে পাকসেনাদের প্রতিহত করেন এবং হিন্দু সরিয়ে নিরাপদে যেতে সাহায্য করেন। পিস কমিটির সদস্য হাসেম ও জলিল মুন্সি নিজ গ্রাম থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসেম খার স্ত্রী সহযোগীতায় তারা পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পনা তাদেরকে প্রশিক্ষনের জন্য ভারতে পাঠিয়ে দেন। ভারতের  বিলগড়িয়া কুমড়ো খালি দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং টাকি ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেন  তারা। ভারত বজলুর রশীদ আজাদ কে নিয়ে কমান্ডার কবির ও মধুর  নেতৃত্বে পাইকগাছা ক্যাম্পে আসেন।

সেখান থেকে মুজিব বাহিনীর জেলা নেতা কামরুজ্জামান টুকুর নেতৃত্বে গল্লামারি এলাকায় পাক বাহিনীর টহল গাড়ীতে হামলা চালিয়ে পরাজিত করে। কিছুদিন পরে সহযোদ্ধা বজলুর রশিদ, আজাদ লাল, হাজির উদ্দিন হাজি, ইউসুফ জব্বার সহ আরো অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধারা খুলনা শহরে প্রবেশ করে পাক সেনাদের সাথে যুুদ্ধ করেন। এসময় অনেকে মারা যান, কেউ আহত হন এবং  জাহাঙ্গিরের পাজরে গুলিবিদ্ধ লাগে এবং পাক সেনাদের পরাজিত করে পাকসেনাদের নিয়ে খুলনার ৭নং ঘাট এলাকায় শিক সেনাদের হেফাজতে রাখা হয়। তার দুইদিন পরেই দেশ স্বাধীনের ঘোষনা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here