২৯ মার্চ, ১৯৭১

0
55
২৯ মার্চ, ১৯৭১
২৯ মার্চ, ১৯৭১

পাকিস্তান সামরিক বাহিনী অপারেশান সার্চলাইট নাম দিয়ে একাত্তরের ২৫ মার্চ শেষ প্রহর হতে পাইকারীভাবে বাঙালি হত্যা শুরু করে।
এনবিসি নিউজে একাত্তরের ২৯ মার্চ সম্প্রচারিত হয় এই সংবাদে একাত্তরের ২৬ মার্চ ঢাকায় অবস্থানরত বিবিসি সাংবাদিক মাইকেল ক্লেটনের জবানবন্দীতে ও ফ্রেঞ্চ টেলিভিশনের ফুটেজে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাঙালির বিরুদ্ধে পরিচালিত ভয়ংকর-বর্বর অপারেশান সার্চলাইট সম্পর্কে বলা হয়।
২৯ মার্চ, ১৯৭১, সোমবার
রেডিও আজ একচোটেই বলে দিয়েছে আটটা-পাঁচটা কারফিউ থাকবে না।
সকালেই গেলাম গুলশানে রুমী-জামীকে বাড়ি নিয়ে আসতে। আজ রুমীর জন্মদিন, অন্তত দুপুরে কিছু রান্না করে খাইয়ে দিই। গিয়ে দেখি কিটি ওখানে বেড়াতে গেছে। গুলশানে বেশির ভাগ বাড়িতে বিদেশীদের বাস-সেখানে চলাফেরার একটু সুবিধে, আর্মির উৎপাতও একটু কম।
ফিরতে ফিরতে ভাবছিলাম, কাঁচাবাজার সব পুড়ে নিশ্চিহ্ন, কিছুই পাওয়া যায় না-আজও কি ডাল আলু দিয়ে খাওয়া হবে? হঠাৎ চোখে পড়ল এয়ারপোর্ট রোডের সার সার বন্ধ দোকানের মাঝে ছোট্ট একটা গোশতের খোলা দোকানে মাত্র একটি খাসির রান ঝুলছে। তক্ষুণি গাড়ি থামিয়ে রানটা কিনে নিলাম। বললাম, “রুমী তোর কপালে পেয়ে গেলাম।”
বাড়ি পৌছে দেখি চিংকু আর কায়সার বসে আছে। বললাম, “ভালোই হল তোমরা এসেছ। আজ রুমীর জন্মদিন। তোমরা দুপুরে ওর সঙ্গে খেয়ে যাও।”
তারপর তিনটে চুলো ধরিয়ে কাসেম,বারেক দু’জনকে খাটিয়ে নিজেও দ্রুত খেটে তৈরি হল পোলাও, কোর্মা আর চানার হালুয়া। গুলশান থেকে আসার সময় রেবা তার বাগানের কিছু টম্যাটো তুলে দিয়েছিল। সেটা দিয়ে সালাদ বানানো হল।
খাওয়ার পর ঢেকুর তুলে জামী বলল, “ভাইয়ার জন্মদিনের খাওয়াটা ভালোই হল। এমন দুর্দিঁনে এর বেশি আর কি চাই?”
খাওয়া-দাওয়ার পর রুমী জামীকে আবার গুলশানে রেখে এলাম।  শহীদ জননী জাহানারা ইমামের বই থেকে
২৯ মার্চ, ১৯৭১

বিকেল ৪টার মধ্যে ময়মনসিংহে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল ব্যাটালিয়নের সমাবেশের কাজ সম্পন্ন হয়। ব্যাটালিয়নের অফিসার এবং সৈনিকদের টাউন হলে একত্র করে বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের আনুগত্য প্রকাশের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ।পাকিস্তানি বাহিনী চট্টগ্রাম সেনানিবাসের বাইরে এসে মেডিক্যাল কলেজ ও নিকটবর্তী পাহাড়ের ওপর সমবেত হয়। সন্ধ্যার দিকে পাকিস্তানিরা প্রথম আক্রমণের সূচনা করে। মুক্তিবাহিনী এই আক্রমণ ব্যর্থ করে দেয়।সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুকে সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়। অতঃপর রাতে সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানযোগে তাঁকে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়।  রাত ১১টায় জগদীশপুরের মহড়া থেকে প্রথম ইস্টবেঙ্গল ব্যাটালিয়নের সদস্যরা যশোর ইউনিটে ফিরে আসে এবং গোলাবারুদ অস্ত্রাগারে ফেরত দেয়।  ক্যাপ্টেন রশীদের সফল অভিযানে ২৫তম পাঞ্জাবের মেজর আসলাম ও ক্যাপ্টেন ইশফাকসহ ৪০ জন পাকিস্তানি সৈন্য পাবনা থেকে গোপালপুরের পথে নিহত হয়। জীবিতদের অনেকে বিচ্ছিন্নভাবে রাজশাহীর দিকে যাওয়ার পথে প্রাণ হারায়।
রাতে ১০০ জনের মতো বাঙালি ইপিআর-কে পাকিস্তানি সৈন্যরা প্রেসিডেন্ট হাউস থেকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে রমনা কালীবাড়ির কাছে নৃশংসভাবে হত্যা করে।  সকালে ময়মনসিংহের রাবেয়া মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ে ইপিআর বাহিনী ও হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।নির্ভীক সৈনিক সিপাহি লুৎফর রহমান লালমনিরহাট শহরের কাছে অবাঙালি ও বাঙালি ইপিআরদের সংঘর্ষে শহীদ হন। ইপিআর সিপাহি আবদুল হালিম ১২ নম্বর উইংয়ের সুনামগঞ্জ কম্পানি হেডকোয়ার্টারসে পাকিস্তানি সৈন্যদের আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে শহীদ হন।

সৌজন্যে : মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here