র‌্যাব-৬ খুলনা কর্তৃক অপহরন ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

0
22
র‌্যাব-৬
র‌্যাব-৬

জিৎ ঢালী, বিবিসি একাত্তর: গত ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ঢাকার একটি বেসরকারী কোম্পানীর ছয় কর্মীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মোট ১০ যুবক মালয়েশিয়ায় গমন করে।

তারা কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর পৌঁছলে বিমান বন্দরের বাহিরে অপেক্ষমান কতিপয় বাংলাভাষী ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাদের সাথে পরিচিত হয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে। সদ্য আগত ১০ যুবক কুয়ালালামপুর বাংলা মার্কেট যাবার ই”ছা পোষণ করে। জনপ্রতি ১০ রিঙ্গিত ভাড়ার বিনিময়ে অভ্যর্থনাকারীরা কুয়ালালামপুরে নবাগত ব্যক্তিদেরকে গাড়ীতে করে বাংলা মার্কেট নিয়ে যাবার প্রস্তাব দিলে যাত্রীগন স্বদেশী লোক দেখে স্বা”ছন্দে তাদের গাড়ীতে উঠে বসে।

অতঃপর অভ্যর্থনাকারীরা ১০ জনকে মাইক্রোবাসে নিয়ে কুয়ালালামপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে একটি ঘরে নিয়ে আটক করে রাখে। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা অপহৃতদের কাছ থেকে বাংলাদেশে তাদের অভিভাবকদের ফোন নাম্বার নিয়ে যোগাযোগ করে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করে। অভিভাবকগন দিশেহারা হয়ে ভিকটিমদের উদ্ধারে বাংলাদেশে  অপহরণকারী  অন্যান্য সহায়তাকারীদের সাথে যোগাযোগ করে।

তারা বিকাশ ও রকেট (ডাচ বাংলা ব্যাংকের) মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিপণের ২৪,১৮,৫০০/- টাকা প্রদান করে অপহৃত ৮ ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায়  থেকে মুক্ত করে। পরবর্তীতে ভিকটিমদের পরিবার তাদের বিমান ভাড়া দিয়ে দেশে ফেরত আনেন। অন্যদিকে মুক্তিপণের পুরো টাকা প্রদান না করায় অপহরনকারীরা বাকি ২ জনকে মালয়েশিয়ায় আটক করে রাখে।

সেই থেকে আটক দুই ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে দেশে প্রত্যাবর্তনকৃতদের অভিভাবকগন এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা কামনা করেন। এরই প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ায় অপহৃত ইমরান সরদারের পিতা আজগর সরদার র‌্যাব সদর দপ্তর ঢাকায় অভিযোগ করেন এবং মুক্তিপনের টাকা ও অপহৃত দুইজনকে উদ্ধারে সহায়তা কামনা করেন।

উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সিপিসি-১, র‌্যাব-৬ খুলনার একটি গোয়েন্দা দল অনুসন্ধানকালে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানাধীন বিকাশ এজেন্ট মোঃ ইমরুল ইসলাম  টিটু কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদকালে তার এজেন্ট নাম্বারে অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেনের বিষয়টি গোচরীভূত হয়। তাকে জিজ্ঞাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে  অপহরণকারী চক্রের অন্যান্য সহায়তাকারীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া হয়।

বিকাশ এজেন্ট মোঃ ইমরুল ইসলাম  টিটু র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের মুক্তিপনের টাকা অনুসন্ধানের বিষয়টি অপহরণকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের জানিয়ে দেয় এবং সে সহ মুক্তিপন আদায় চক্রের অন্য সদস্যরা আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে অপহরণকারীদের মোবাইল ট্রাকিং ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ৩ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ সকাল ০৮.৪৫ ঘটিকায় র‌্যাব-৬,

সিপিসি-১ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানাধীন কাটাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক অপহরণকারী ও মুক্তিপণ আদায় চক্রের সক্রিয় সদস্য মোঃ আহসান হাবিব খান (৪৩) কে হাতেনাতে গেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ আহসান হাবিব খানের তথ্য মতে ফকিরহাট থানাধীন নোয়াপাড়া তিন রাস্তার মোড় হতে আসামী মোঃ রুহুল আমিন খান (৪২) ও বিকাশ এজেন্ট মোঃ ইমরুল ইসলাম  টিটু (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়।

আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অপহরণকারী চক্রদের প্রচলিত আইনের আওতায় নিয়া আসা এবং এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here