সিলেট মেডিক্যাল কলেজকে দেশের চতুর্থ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হয়েছে।

0
12
medical
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট মেডিক্যাল কলেজকে দেশের চতুর্থ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে এ ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর সভাকক্ষে এসেছি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দেওয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেটে ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাংলাদেশে আরও একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হবে এবং সেটি সিলেটে। সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারপর অর্থমন্ত্রী আমাকে চিঠি দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, সিলেটে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কবে হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার অনুমোদন পাওয়া গেছে। সিলেটে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় যে নীতিমালায় হয়েছে, একই রকম নীতিমালায় সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান বাড়ানো, স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি গবেষণা ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সিলেট বিভাগের মেডিক্যাল কলেজগুলো এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এফিলিয়েটেড থাকবে। একই সঙ্গে নার্সিং ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পর রাজশাহী ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। ওইগুলোতে ভিসি নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দক্ষিণ সিলেটের সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। শিগগিরই জাতীয় সংসদে এ আইনটি উপস্থাপন করা হবে।
আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হলে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। বৈঠকে স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে, বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায়ই স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এ অবস্থায় কর্তব্যরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি স্বাস্থ্য পুলিশ গঠনের দাবি জানান।
এছাড়া বৈঠকে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার চিকিত্সা যন্ত্রপাতি রয়েছে। এর অধিকাংশই মেরামতের অভাবে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি অর্থবছর মেরামত খাতে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাত্র দেড় কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। অর্থের অভাবে বিপুলসংখ্যক দামি যন্ত্রপাতি পড়ে থাকায় চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বৈঠকে অবহিত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here