২০১৮ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা

0
14
padma
বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণে ৪১ শতাংশ অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে আগামী বছরেই শতভাগ বাস্তবায়ন কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে সরকার। কিন্তু বাস্তবায়নের হারের পাশাপাশি বরাদ্দ ও ব্যয়ের চিত্র পর্যালোচনা করলে ২০১৮ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। গতকাল বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, মার্চ পর্যন্ত ৪১ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি হয়েছে।
২০১৮ সালের মধ্যে সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হবে বলে সেতু বিভাগ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নতুন অর্থবছরে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৫ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে সেতু বিভাগ।
সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থমন্ত্রী ৪১ শতাংশ বাস্তবায়নের কথা বললেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ৪২ শতাংশ। টাকার অঙ্কে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপিতে পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ ৪ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা থেকে মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাকি সময় খরচ না হওয়া ২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়ে গেলে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা যদি ব্যয় করা সম্ভব হয় তবে প্রায় ৭০ শতাংশ অগ্রগতি হবে বলে জানান সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা। অবশ্য কোনো অর্থবছরেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ এডিপির শতভাগ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। পরে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ কমানো হয়। ফলে সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণের শতভাগ কাজ শেষ করতে হলে ব্যয় করতে হবে ৭ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। মাত্র ৬ মাসে বিশাল এ অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা।
তাই প্রকল্পের মেয়াদ আবারও বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা। কিন্তু বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। এ কারণে সংশোধিত এডিপিতে এ প্রকল্প থেকে ১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এতে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ থাকছে ৪ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এডিপিতে পদ্মা সেতুর জন্য ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দের ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকাই ফেরত গেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮ হাজার ১০০ কোটি টাকা থেকে কমে বরাদ্দ হয়েছিল ৭ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছর আরএডিপিতে পদ্মা সেতুর বরাদ্দ থেকে ফেরত গেছে ২৫৩ কোটি। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এটি করছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি করে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকার পদ্মা সেতু প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর আগে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। প্রকল্প প্রস্তাবে প্রায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর নির্মাণ ২০১৮ সালে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here