বিয়ে নিয়ে এই চারটে ভুল ধারণা মন থেকে মুছে ফেলুন এখনি!

0
16
marrige
বিয়ে নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের আশা-আশঙ্কার অন্ত নেই। অনেকেই জটিলতার ভয়ে এখন বিয়েতে ভয় পান। অনেকে আবার নানা ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে বিয়ে করে বসেন। পরে ‌বাস্তবের মুখে পড়ে মেনে নিতে সমস্যা হয় তাদের।
অনেক সময়ই ভেঙে ‌যায় সম্পর্ক। তাই বিয়ে করার আগেই সেই ভ্রান্ত ধারণাগুলো কাটিয়ে ফেলা ভাল। আর বিয়ে ‌যদি হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে এই তথ্য আরও ভালভাবে বুঝতে সাহা‌য্য করবে আপনার সঙ্গীকে।
বিয়ে নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা
১. বিয়ের নির্দিষ্ট বয়স আছে
আমাদের সমাজে ‘বিয়ের বয়স’‍ বলে একটা শব্দবন্ধই রয়েছে। ‌যা পার হয়ে গেলে নাকি আর বিয়ে করা উচিত নয়। কিন্তু এই ধারণা একেবারেই ভুল। বিয়ে করার বাস্তবে কোনও বয়স হয় না। ‌যে কোনও বয়সেই বিয়ে করা ‌যেতে পারে।
বর্তমানে ‌বহু ‌যুবক ‌যুবতীই কাজের চাপে সঙ্গীর তেমন প্রয়োজন বোধ করেন না। কিন্তু পরে তাঁদের প্রয়োজন হতেও পারে। আবার কিছু ‌মানুষ খুব কম বয়সে ঝোঁকের বশে বিয়ে করে ফেলেন। পরে তাদের আক্ষেপ করা ছাড়া কিছু করার থাকে না।
তাই পুরুষ হোন বা নারী ‘বিয়ের বয়স’‍ বলে আপনাকে পরিবারের লোক ‌যতই মন্ত্রণা দিক সঙ্গীর অভাব বোধ না করলে বিয়ে করবেন না।
সঙ্গীর প্রয়োজন বোধ করলেও দুম করে বিয়ে করে ফেলা ঠিক নয়। সঙ্গী ‌যদি আপনার জন্য ঠিকঠাক না-হয় তাহলে বাকিটা জীবন আক্ষেপ করতে আপনাকেই। বাকি জীবন কিন্তু মুখের কথা নয়। সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন না করতে পারার হতাশায় আপনি ‌যে কাজগুলো পারতেন সেগুলোতেও সেরাটা দিতে পারবেন না।
সে ২৫ বছর বয়সে একজন ভুল মানুষকে বিয়ে করার চেয়ে ৪৫ বছরে একজন ঠিক মানুষকে বিয়ে করাই শ্রেয়।
২. আপনার জন্য সারা পৃথিবীতে একজনই অপেক্ষা করে রয়েছে
মানুষ জৈবিক ভাবে বহুগামী। সমাজব্যবস্থা আমাদের একগামীতার প্ররোচনা দেয়। সেজন্য ছোট বেলা থেকেই নারী – পুরুষ নির্বিশেষে শেখানো হয় ‘তোমার জন্য একজনই অপেক্ষা করে রয়েছে।’‍ এই ধারণাই অধিকাংশ সম্পর্কে জটিলতার কারণ। ‌যা বিচ্ছেদ প‌র্যন্তও গড়ায়।
এব্যাপারে ভাবতে গেলে প্রথমেই আপনাকে আপনার জন্য ‘পারফেক্ট সঙ্গী’‍-র সংজ্ঞা ঠিক করতে হবে। গোলাকার বিশ্বে পারফেক্ট বলে কিছু হয় না। এমনকী পৃথিবীও পারফেক্ট গোল নয়।
অনেকেই নিজেকে তাঁর সঙ্গীর পারফেক্ট পার্টনার মনে করেন।
কিন্তু আদপে সব বিষয়ে তিনি তাঁর সঙ্গীর জন্য পারফেক্ট নন। সব বিষয়ে কারও সঙ্গে পারফেক্ট ম্যাচ হওয়া সম্ভবও নয়। তাই এমন প্রত্যাশা না করাই ভাল। তাতে সম্পর্ক সুস্থ থাকে।
বরং মেনে নিন অনেক বিষয়েই আপনার থেকে অন্য কারও সঙ্গে আপনার পার্টনারের মিল বেশি। এতে পরস্পরের মধ্যে ভালবাসার প্রতি কোনও প্রশ্ন ওঠে না। বরং সম্পর্কের দৃঢ়তা আরও বাড়ে।
৩. ঝগড়া হচ্ছে মানে সম্পর্ক টিকবে না
দু’‍জন মানুষ দিনভর কাছাকাছি থাকলে নানা মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। তা নিয়ে ছোটখাটো ঝামেলা লেগেই থাকে। সেজন্য সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
সত্যি কাউকে কেউ ভালবেসে থাকলে ছোটখাটো ঝগড়া বা হাতাহাতির জন্য তাঁকে কখনো ছেড়ে ‌যায় না। বরং তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে ‌যান। তাঁর মননের চরিত্র বোঝার চেষ্টা করুন। দরকার হলে নিজেকে কিছুটা বদলান।
তাই বলে নি‌র্যাতনের স্বীকার হয়ে কোনও সম্পর্কে থাকবেন না।
৪. সন্তানদের গুরুত্ব সবার আগে
বিয়ের পর সন্তান হলেই স্বামীর- স্ত্রীর সম্পর্কের রসায়ন লঘু হয়ে আসে। সব ভাবনা ঘোরে সন্তানকে নিয়ে। কিন্তু এটা সব থেকে বড় ভুল।
বর্তমান সমাজে সন্তানের পিছনে দৌড়তে গিয়ে অনেক সময়ই স্বামী বা স্ত্রী কখনো দু’‍জনেই পরস্পরের প্রতি অবহেলা করে বসেন। ‌যা থেকে নানা অভি‌যোগ তৈরি হয়। এবং সম্পর্ক ক্রমশ ভাঙনের দিকে গড়ায়।
এবার ভাবুন, বাবা – মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গেলে কী করে সন্তানদের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটতে পারে। কারও একজনের থেকে দূরে থাকলে সম্পূর্ণ শৈশবের স্বাদই উপভোগ করতেই পারবে না তাঁরা।
ফলে সন্তান ‌যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক মনে রাখবেন আপনার পার্টনারের গুরুত্বও নেহাত কম নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here