ব্যয় বাড়ছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে

0
12
padma bridge
ব্যয় বাড়ছে পদ্মা সেতুতে। সরকারের অগ্রাধিকারের (ফাস্ট ট্র্যাক) পদ্মা সেতু প্রকল্পের জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়ক নির্মাণ ব্যয় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া এ চার লেন সড়কের নির্মাণ ব্যয় এক হাজার ৯৭ কোটি ৩৯ লাখ থেকে ২৫৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে সেতু বিভাগ।
ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবটি চলতি মাসের শুরুতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠায় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেতু বিভাগ। গত ১৩ জুন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ব্যয় বৃদ্ধির সুপারিশ অনুমোদন করেছেন। এখন তা ‘সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’তে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় ২৮ হাজার

৭৯৩ কোটি টাকা। ব্যয় বৃদ্ধির সুপারিশ অনুমোদন পেলে তা ২৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে। এর আগে ২০১৫ সালে এ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়। ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট পদ্মা সেতু প্রকল্প অনুমোদন পায়। তখন প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফা সংশোধনে ব্যয় বেড়ে হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুযায়ী, সংযোগ সড়ক ও টোলপ্লাজা নির্মাণ ব্যয় আগের দুই দফায় ৪৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার আরও ২৩ শতাংশ বাড়তে যাচ্ছে।

প্যাকেজ-৪ এর অধীনে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ১০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক ও টোলপ্লাজা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ৯৭০ মিটার দীর্ঘ পাঁচটি সেতু, ২০টি কালভার্ট, আটটি আন্ডারপাস, ১২ কিলোমিটার সার্ভিস রোড, ছয় কিলোমিটার ফেরি ঘাট রোড নির্মাণ করা হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে চারতলা বিশিষ্ট দুটি পুলিশ থানা নির্মাণ করা হয়েছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত এ প্যাকেজে ৯৫ দশমিক ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ প্যাকেজের কাজ শেষ। কিন্তু কাজ শেষের পর ২৩ দশমিক ৫১ ভাগ ব্যয় বৃদ্ধির সুপারিশ করা হলো। এ অংশের ঠিকাদার এএমএল-এসসিএম জয়েন্টভেঞ্চার কোম্পানি।

ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে সেতু বিভাগের সুপারিশে বলা হয়, দুটি থানা ভবন নির্মাণে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার চেয়ে (আরডিপিপি) ৩৭ কোটি সাত লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। ফেরিঘাট সড়ক নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৪২ কোটি টাকা। নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ ১৭৮ কোটি ব্যয় বেড়েছে। মাটি ভরাটে ব্যয় বেড়েছে ১৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

ব্যয় বৃদ্ধির সুপারিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আরডিপিপিতে যে ব্যয় ধরা হয়েছিল, বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে তার চেয়ে ব্যয় বেড়েছে। এ কারণেই ব্যয় বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

পাঁচটি প্যাকেজে পদ্মা সেতুর ভৌত অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে। সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের ৪২ ভাগ কাজ শেষ। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে। ২০১৯ সালের প্রথম দিন থেকে সেতুতে যানবাহন চলবে। ২০১১ সালে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হলেও ২০১৫ সালে সেতুর মূল পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়। জাজিরাপ্রান্তে ৩৭ নম্বর পিলারের পাইলিংয়ের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চলছে পাইল ক্যাপ নির্মাণের কাজ। আগামী মাসে সেতুটির পিলার (পিয়ার) দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের পদ্মা সেতুর কাজ অন্যান্য ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের চেয়ে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। সেতুর তিনটি প্যাকেজে কাজ প্রায় শেষ। প্রধান দুই প্যাকেজ মূল সেতু নির্মাণ ও নদীশাসনের কাজ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩০ এপ্রিল মূল সেতুর ৪৯ দশমিক ৯৮ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ হয়েছে ৩৭ ভাগ। মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। –

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here