রাম রহিমের পালানোর ষড়যন্ত্র যেভাবে ধরা পড়ে

0
9
ram rohim

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের ধর্ষক ধর্মগুরু গুরমিত সিং রাম রহিম আদালত থেকে পালাতে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। কিন্তু পুলিশের কাছে তা ধরা পড়ে যায়।

হরিয়ানা রাজ্য পুলিশের মহাপরিদর্শক কেকে রাও এ তথ্য জানিয়েছেন। এ রাজ্যের পাঁচকুলার আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হওয়ার দিন ভক্তদের দিয়ে বিশৃঙ্খলা বাধিয়ে আদালত থেকে পালানোর পরিকল্পনা ছিল তার।

কেকে রাও দাবি করেছেন, পাঁচকুলার আদালত থেকে রোতাক জেলে নেওয়ার সময় রাম রহিমের বিক্ষুব্ধ ভক্তরা তাকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে হেলিকপ্টারে রোতাক কারাগারে নেওয়া হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কেকে রাও বলেন, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই বিতর্কিত স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু তার একটি ‘লাল ব্যাগ’ তাকে এনে দিতে বলেন। সিরসার আশ্রম থেকে আদালতে আসার সময় সেটি তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন এবং আদালতের বাইরে তার গাড়িতে রাখা ছিল।

কেকে রাও বলেন, ওই লাল ব্যাগে তার পোশাক-পরিচ্ছদ আছে জানিয়ে সেটি এনে নিতে বলেন। এটি ছিল মূলত এক ধরনের সংকেত। লাল ব্যাগ আনার অর্থ তিনি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন এবং বার্তাটি তার ভক্ত-অনুসারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ইশারা, যাতে তারা গণ্ডগোল পাকাতে পারে।

এর প্রমাণ পাওয়া যায় তখনই যখন গাড়ি থেকে লাল ব্যাগটি আনা হচ্ছিল। ওই সময় আদালত থেকে ২-৩ কিলোমিটার দূরে কাঁদানে গ্যাসের শব্দ শোনা যায়। অর্থাৎ সংকেত পেয়ে রাম রহিমের ভক্তরা ততক্ষণে গণ্ডগোল বাধিয়ে দিয়েছে। কেকে রাও বলেন, আমরা তখনই বুঝতে পারি, এটি ছিল সংকেত এবং এর মাধ্যমে কোনো বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা ধন্ধে পড়ে গিয়েছিলেন এই ভেবে যে, রায়ের পর রাম রহিম ও তার পালিত কন্যা কেন পাঁচকুলার আদালতের করিডোরে এতটা সময় ক্ষেপণ করছিলেন। তাদের বারবার বলা সত্ত্বেও তারা সময় নিচ্ছিলেন।

কেকে রাও বলেন, ‘গাড়িতে উঠার আগে তারা সময় নিচ্ছিলেন এই জন্য যে, যেন আদালত থেকে তাদের রওনা দেওয়ার খবর সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাস্তায় তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের বলা হয়েছিল, আপনারা এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন না। তখন রাম রহিমের ভক্তরা ২-৩ কিলোমিটার দূরে ছিল কিন্তু ক্রমেই কাছে আসার চেষ্টা করছিল। আমরা কখনো সহিংসতা চায়নি, এতে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা ছিল।’

গুরুমিত সিং রাম রহিমের ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তার ভক্ত-অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ২৩ জন নিহত হন। হরিয়ানা ও পাঞ্জাব প্রদেশে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও তাণ্ডব চালায় আশ্রমের হাজার হাজার ভক্ত-অনুসারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত সেনা মোতায়েন করতে হয়েছিল।

কেকে রাও বলেন, ‘পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে পড়লে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যে গাড়িতে রাম রহিম এসেছিলেন, সে গাড়িতে না নিয়ে তাকে ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ক্রাইম) সুমিত কুমারের গাড়িতে নেওয়া হবে। কিন্তু যখন তাকে গাড়িতে তোলা হলো, তখন তার দীর্ঘদিনের দেহরক্ষীরা চারদিক থেকে ঘিরে ধরল। তখন সুমিত কুমার ও তার টিমের সদস্যদের সঙ্গে তাদের ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। তার দেহরক্ষীরা উন্মাতাল ছিল। তবে আমরা ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করি, কোনো গুলি খরচ হয়নি।’

তিনি আরো জানান, যে রাস্তায় দিয়ে রাম রহিমকে নেওয়ার কথা ছিল, সেই রাস্তায় তার ভক্তরা ৭০-৮০টি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিল। ওইসব গাড়িতে অস্ত্র থাকা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। কিন্তু পুলিশের লক্ষ্য ছিল, পাঁচকুলা থেকে তাকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা। এ জন্য ক্যান্টনমেন্ট এলাকা দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতেও যদি তার ভক্তরা সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে গুলি চালানোর নির্দেশ ছিল। তারপরও রাম রহিমের দেহরক্ষীরা ক্যান্টেমেন্ট এলাকায় তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর সড়ক পরিহার করে তাকে হেলিকপ্টারে রোতাকের কারাগারে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ধর্মগুরু রাম রহিম ডেরা সাচা সাওদার প্রধান। তার অধীনে ৩৮টির মতো আশ্রম রয়েছে। মূল আশ্রমটি হরিয়ানার সিরসায়। গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জনপ্রিয়তা কুড়ালেও তার জীবন-যাপন নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। আশ্রমের নারী সেবিকাদের ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। খুনের অভিযোগও আছে। তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে নানাভাবে তাদের হয়রানি করা হতো। তার অর্থের উৎস নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

আশ্রমের দুই নারীকে ধর্ষণের দায়ে পৃথক দুই মামলায় ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার। এখন তিনি রোতাকের কারাগারে সাধারণ আসামির মতো সাজা খাটছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here