ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর গণসংযোগ

0
12
BM NAZIM

মোঃ হাবিব ওসমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঃ আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মাঠ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ছুটে যাচ্ছেন নিজ এলাকায়। নিজের পক্ষে নেতাকর্মী আর সাধারণের জনমত গঠনে কাজ করছেন তারা। বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, এবারের মতো বিএনপিতে এত বেশি তরুণ মনোনয়ন প্রত্যাশী এর আগে লক্ষ্য করা যায়নি এবার ছাত্রদল সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে শুরু করে অন্যান্য সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনোনয়ন চাইছেন।

এর বাইরেও ছাত্রদলের সাবেক নেতৃবৃন্দও এবার দলীয় মনোনয়নের জন্য লবিং-তদবির আর নিজ এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন দলটির নীতি নির্ধারকরা। তারা মনে করছেন, এতে দলের পক্ষে প্রচারণা চলছে।

সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। তেমনি ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বি এম নাজিম মাহমুদ। তিনি গত ৩ দিনে নির্বাচনী এলাকার ৪ টি ইউনিয়নের ১৭ টি বাজারে গণসংযোগ করেছেন।

বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক ও সার্বিক যোগাযোগ রেখেছেন। নেতাকর্মীদের মামলা সামাল দিতে সহযোগিতা করেছেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বি এম নাজিম মাহমুদ ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ সার্বিক সহযোগীতা করে আসছে অনেক দিন থেকে।

তার সাথে কথা বলে জানা যায়, সে যখনই সময় পান তখনই এলাকায় এসে ছিন্নমুল মানুষের সাথে দেখা করে খোজ খবর নেন এবং তাদের বিভিন্ন সহযোগীতা করেন। সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নেন। সে এলাকায় অনেকবার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন এবং ফ্রি ঔষুধ রোগীদের মঝে বিতরন করেছেন।

বর্তমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মঝে ত্রান বিতরন করেছেন একাধিক বার। কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নাজিম মাহমুদ। বর্তমানে উপজেলা সদরের মোবারকগঞ্জ সুগার মিল সংলগ্ন বাসস্থান। নাজিম মাহমুদের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল ইসলাম শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমানে সে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

মা রহিমা খাতুনও শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন। বর্তমানে তিনিও অবসরপ্রাপ্ত। নাজিম মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করে প্রাইম ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি সম্পন্ন করছেন। পরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন। রাজনৈতিক বৈরি পরিস্থিতির কারণে কোর্স সম্পন্ন
করতে পারেননি।

১৯৯৮ সালে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে ভর্তি হওয়ার পরেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পরেন। তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্ররাজনীতি ছাড়াও নাজিম মাহমুদ এলাকায় সমাজ সেবামূলক কাজ করছেন দীর্ঘদিন থেকেই। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘বন্ধন’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ৪১ জন সদস্যকে নিয়ে এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাজিম মাহমুদ দ্বিতীয় বারের মতো সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

জাতীয়বাদী রাজনীতির প্রতি তার আগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাবার অনুপ্রেরণা আর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দর্শনে আকৃষ্ট হয়েই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দেন।’ নির্বাচনের আগ্রহ ও প্রস্তুতির বিষয়ে নাজিম মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমান দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ জনগণ তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে দলের উচ্চ পর্যায় থেকেও তরুণ নেতৃত্বে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপট থেকেই আমার নির্বাচন করার আগ্রহ।

প্রায় দেড়যুগের বেশি সময় ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। একইসঙ্গে এলাকায় সমাজসেবামূলক কার্যক্রমেও জড়িত রয়েছি। এসব বিবেচনায় দল আমার প্রতি আস্থা রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দিনের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। ২০-২৫টি মামলার আসামি করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও তিনটি মামলার আসাসি করা হয়েছে।

আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে দুইবার কারাবরণ করতে হয়েছে আমাকে। প্রথমবার ২০১২ সালে নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আমাকে আটক করা হয়েছিল, সেই সময় তিন মাস কারাভোগ করি। পরে ২০১৪ সালেও আরেকবার আটক করা হয়। রাজনৈতিক বৈরি পরিবেশে এলাকার নেতাকর্মী বিশেষ করে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থাকার চেষ্টা করি।

তাদের মামলা-মোকাদ্দমায় আইনি সহযোগিতাসহ সাধ্যমত সহযোগিতার চেষ্টা করি।’ এই ছাত্রনেতার দাবি এসব বিবেচনায় দলের হাইকমান্ড তার প্রতি আস্থা রাখবে। তবে
তার বক্তব্য হচ্ছে- ‘এই দুঃসময়ে দল ও দেশের বৃহৎ স্বার্থে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতেও প্রস্তুত আছি আমি।

মনোনয়ন না পেলেও দলের মনোনীত প্রার্থী তথা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ‘বন্ধন’ সংগঠনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৮টি স্কুলের গরীব ও মেধাবী ৬২টি জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক হাজার মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রায় কয়েকশ মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।’

নাজিম মাহমুদ বলেন, ‘দলের মনোনয়ন পেলে ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারলে আমার এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করব। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে সমাজের উন্নয়নের মূল¯্রােতে নিয়ে আসব।’ তিনি বলেন, ‘কালীগঞ্জ মাদকপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। জনগণ ও প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব। অবকাঠামোগত উন্নয়নের ম্যাধমে মানুষের জীবনযাত্রায় আধুনিকতার ছোঁয়া পৌঁছে দেব সবার কাছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সৎ, যোগ্য ও তরুণ নেতৃত্বে প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। সেই আগ্রহ কাজে লাগিয়ে সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে কাঙ্খিতউন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।’ আমি মনে প্রাণে বিএনপির রাজনীতিকে ভালবেসেছি ভর্বিশ্যতেও ভালবাসবো। আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় এসে কখনোই বসে থাকি না, সর্বস্তরের মানুষের সাথে মিশে তাদের দঃখ দূর্দশা লাঘোব করার সাধ্যমত চেষ্ঠা করি।

আমি সবার কাছে দোয়া চাই যে, আমি যেন জনগণের সাথে থেকে সারা জীবন গরীব দুঃখী মানুষের সেবা করতে পারি। আমি আমার নিজের জন্য কিছু করতে চাইনা। আমি সব সময় মানুষের জন্য করার চেষ্ঠা করি। আমার নির্বাচনী এলাকায় আমার সমাজসেবামূলক অনেক কাজে নিদর্শন পাওয়া যাবে। আমি এই বয়সে যতটুকু মানবসেবা করেছি আমার কাছে সেটা কারো চেয়ে কম মনে হয় না।

মানবসেবার নেতৃত্বের প্রতীক হিসাবে বি এম নাজিম মাহমুদ ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী হিসাবে ইতিমধ্যে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে মানুষের মুখে মুখে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নাজিম মাহমুদের নাম । শিক্ষিত মেধাবী হিসাবে তার জনপ্রিয়তা যথেষ্ঠ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here